ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ধসে পড়া ভবন ও বাড়িঘরের নিচে এখনো বহু মানুষ জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কার্যকর উদ্ধার অভিযান শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভূমিকম্পের […]
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ধসে পড়া ভবন ও বাড়িঘরের নিচে এখনো বহু মানুষ জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কার্যকর উদ্ধার অভিযান শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভূমিকম্পের পর শহরের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার নিজেদের হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের অভাবে তাদের সেই প্রচেষ্টা প্রায় অসহায়ত্বে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপর্যয়ের প্রায় ১২ ঘণ্টা পরও অনেক এলাকায় কোনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়নি। ৪৯ বছর বয়সী ল্যারি রোজাস নামের এক নারী ধসে পড়া নিজের বাড়ির সামনে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন। কিন্তু তাদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিংবা লোকবল তাদের কাছে নেই।
আরেক বাসিন্দা জানান, একটি ১২ তলা ভবনের নিচে তার মেয়ে আটকা পড়ে আছে। বহুবার সাহায্যের আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে সঙ্গে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে।
এদিকে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী অন্তত ১৮৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৯৭১ জনের বেশি। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় আরেকটি শক্তিশালী কম্পন পুরো অঞ্চলকে আবারও কাঁপিয়ে তোলে। এই স্বল্প ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে ভবন, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাতিয়া লা মার শহরটি ভেনেজুয়েলার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে বহুতল ভবন ধসে পড়েছে, রাস্তাঘাট ফেটে গেছে এবং বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে এখনো জীবিত মানুষের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তবে ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন এখন দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছানো।
স্বজনদের অপেক্ষা, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ভেসে আসা ক্ষীণ শব্দ এবং অনিশ্চয়তায় কাটতে থাকা দীর্ঘ সময়—সব মিলিয়ে কাতিয়া লা মার এখন এক গভীর মানবিক ট্র্যাজেডির নাম।