গাড়ি দুর্ঘটনার নামে ভুয়া দাবি দাখিল করে ইন্স্যুরেন্সের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ ডলারের সন্দেহজনক ইন্স্যুরেন্স ক্লেইমের তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় মোট ৩১টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এবং দুটি অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় […]
প্রতীকী ছবি
গাড়ি দুর্ঘটনার নামে ভুয়া দাবি দাখিল করে ইন্স্যুরেন্সের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ ডলারের সন্দেহজনক ইন্স্যুরেন্স ক্লেইমের তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় মোট ৩১টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এবং দুটি অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধের অভিযোগ।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে এসব গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ ও অঙ্গরাজ্যের আর্থিক সেবা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস—ডিএফএস) অংশ নেয়। ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ সাফোক, অনন্ডাগা, মনরো ও ইরি কাউন্টিতে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে গাড়ি দুর্ঘটনার ঘটনা সাজিয়ে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব দাবির মধ্যে চিকিৎসা ব্যয় ও দুর্ঘটনাজনিত অন্যান্য খরচের কথা উল্লেখ করা হয়। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, সাজানো দুর্ঘটনার মাধ্যমে ইন্স্যুরেন্সের অর্থ আদায় করাই ছিল এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য।
তদন্তে উঠে আসা দুটি ঘটনার বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ২ ডিসেম্বর ব্রুকলিনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা বাবদ ১৬ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। অন্য ঘটনাটি চলতি বছরের ১৮ মার্চ ব্রঙ্কসে ঘটে। ওই ঘটনায় চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৭০ হাজার ডলারের বেশি অর্থের দাবি দাখিল করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে গাড়ির ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতির সন্দেহে ৪৩ হাজার ৮১১টি প্রতিবেদন নথিভুক্ত করা হয়। গত পাঁচ বছরে এ ধরনের প্রতিবেদনের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি সাজানো গাড়ি দুর্ঘটনার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনার সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।
ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি মোকাবিলায় অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ আইন ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগও নিয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য সাজানো দুর্ঘটনার পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম ও কোম্পানিগুলোর মুনাফাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভোক্তাদের সুরক্ষা জোরদার করা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, সাজানো দুর্ঘটনা ও মিথ্যা ইন্স্যুরেন্স দাবি শুধু আর্থিক জালিয়াতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ফলে প্রকৃত দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত অর্থও অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়ে। একই সঙ্গে এ ধরনের জালিয়াতি ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। প্রায় ৫ লাখ ডলারের অঙ্কটি সন্দেহজনক বা ভুয়া বলে অভিযোগ করা ক্লেইমের মোট পরিমাণ; এই অর্থের পুরোটাই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো পরিশোধ করেছে, এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: বাংলা পত্রিকা, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের কার্যালয় ও গথামিস্ট।