এক বছরে ৬৩৪ জন গৃহহীন মানুষের মৃত্যু, মাদকজনিত প্রাণহানি ২৫১; আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষই বেশি ঝুঁকিতে নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে মাদক ও অ্যালকোহল। শহরটির স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গৃহহীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬৩৪ […]
ছবি: সংগৃহীত
এক বছরে ৬৩৪ জন গৃহহীন মানুষের মৃত্যু, মাদকজনিত প্রাণহানি ২৫১; আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষই বেশি ঝুঁকিতে
নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে মাদক ও অ্যালকোহল। শহরটির স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গৃহহীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬৩৪ জনের মধ্যে ২৮৫ জনের মৃত্যুর সঙ্গে মাদক ও অ্যালকোহল ব্যবহারের যোগসূত্র ছিল। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশের ক্ষেত্রেই এসব উপাদানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে মাদক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে মারা গেছেন ২৫১ জন। মোট মৃত্যুর হিসাবে এটি প্রায় ৪০ শতাংশ। এর বাইরে অ্যালকোহলের অপব্যবহার বা নির্ভরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৩৪টি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে মাদক ও অ্যালকোহলজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৫। গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যান্য কারণের তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তবে আগের বছরের তুলনায় সামগ্রিক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ অর্থবছরে নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন অবস্থায় ৭৭০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ অর্থবছরে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৬৩৪, অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাস।
একইভাবে মাদকজনিত মৃত্যুও ৩৪৮ থেকে কমে ২৫১ জনে নেমেছে।
মাদক ও অ্যালকোহলের পর গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, দুর্ঘটনা ও ক্যানসার।
এক বছরে হৃদরোগে মারা গেছেন ৭৮ জন। মাদকজনিত ওভারডোজ ছাড়া অন্যান্য দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬০ জন। ক্যানসারে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।
এ ছাড়া আত্মহত্যায় ১৮ জন, হাইপোথার্মিয়ায় ১৫ জন, সাবওয়ে-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ১৫ জন এবং হত্যাকাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃতদের একটি বড় অংশই ছিলেন আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা গৃহহীন মানুষ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট মৃতের ৫২ শতাংশ আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে ২২ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে খোলা পরিবেশে।
অন্যদিকে, মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশ ঘটেছে হাসপাতালে। আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে মাদকজনিত মৃত্যুর হারও তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ চিত্র হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়েও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ করে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করা অভিবাসীদের মৃত্যুর সব তথ্য সংশ্লিষ্ট ডেটাবেসের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখিত হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের মতে, গৃহহীন জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিগুলোর একটি। দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য, অনিশ্চিত আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মাদকজনিত মৃত্যু কমাতে শহর কর্তৃপক্ষ ওভারডোজ প্রতিরোধ কর্মসূচি, নালোক্সোন ব্যবহারের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট গবেষণাতেও গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ওভারডোজের বিষয়টি উঠে এসেছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রকাশিত ধারাবাহিক বার্ষিক প্রতিবেদনের এটি ২০তম সংস্করণ। কর্তৃপক্ষের আশা, মৃত্যুর কারণ ও ঝুঁকির ধরন সম্পর্কে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে গৃহহীন মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সহায়তা এবং অন্যান্য সামাজিক সেবার কার্যকারিতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
তবে পরিসংখ্যানের সবচেয়ে বড় বার্তাটি হলো—নিউইয়র্কে গৃহহীন মানুষের সংকট শুধু আবাসনের অভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে মাদক, অ্যালকোহল, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতার মতো একাধিক সংকট গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।