নিউইয়র্কের মেডিকেইড কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত নজরদারি ও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে ২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ভুলভাবে পরিশোধের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির কার্যালয়ের সাম্প্রতিক এক অডিট প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অডিটে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে একজন রোগী তার জীবদ্দশায় কতবার পরীক্ষা করাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারিত থাকলেও সেই […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মেডিকেইড কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত নজরদারি ও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে ২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ভুলভাবে পরিশোধের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির কার্যালয়ের সাম্প্রতিক এক অডিট প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
অডিটে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে একজন রোগী তার জীবদ্দশায় কতবার পরীক্ষা করাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারিত থাকলেও সেই সীমা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এর ফলে হাজার হাজার দাবির বিপরীতে মেডিকেইড থেকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন ৯১ হাজার ৭১৮টি দাবি শনাক্ত করা হয়েছে, যার বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলার দিয়েছে মেডিকেইড পরিচালনাকারী ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো।
অডিটরদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেককেই পরীক্ষাগুলোর নির্ধারিত সীমা সম্পর্কে যথেষ্ট স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তাদের নিজস্ব দাবি যাচাইয়ের ব্যবস্থাতেও দুর্বলতা ছিল।
অডিটে আরও প্রায় ১৮ লাখ ডলারের অতিরিক্ত পেমেন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য ল্যাব ও অ্যাম্বুলেটরি সেবার ১১ হাজার ৪৯টি দাবির বিপরীতে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এসব সেবার খরচ সাধারণত ইনপেশেন্ট প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা।
ফলে একই সেবার জন্য আলাদাভাবে অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে মেডিকেইড কর্মসূচির অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে অডিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ২৭৫ ধরনের ল্যাব পরীক্ষার ক্ষেত্রে রোগীর জীবদ্দশায় পরীক্ষার সংখ্যা সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। কিন্তু স্টেট কম্পট্রোলারের কার্যালয়ের অডিটে বলা হয়েছে, বিভাগের প্রকাশ্য নির্দেশিকায় মাত্র সাতটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এসব সীমার তথ্য উল্লেখ ছিল। ফলে বাকি পরীক্ষাগুলোর সীমা সম্পর্কে ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল।
ভুল পেমেন্ট ঠেকাতে অডিট প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য বিভাগকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঘটনাগুলো পুনরায় পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন হলে অর্থ ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমাবদ্ধতা থাকা সব ল্যাব পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে দাবি যাচাইয়ের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেডিকেইড কর্মসূচিতে বছরে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। এই কর্মসূচির আওতায় রাজ্যের ৮০ লাখের বেশি নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন থাকা বাসিন্দারা চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, অপচয় ও অপব্যবহার ঠেকাতে নির্দিষ্ট ল্যাব পরীক্ষার সীমা কার্যকর করার জন্য তাদের সিস্টেমে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ভুল পেমেন্ট ও অনিয়ম কমাতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিভাগটি।
ফেডারেল সরকার নিউইয়র্কের মেডিকেইড কর্মসূচির ব্যয় ও ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সময়েই এই অডিট প্রতিবেদন প্রকাশ পেল। ফলে বিপুল অর্থের এই ভুল পেমেন্টের ঘটনায় রাজ্যের মেডিকেইড ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।