নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তর থেকে ছয়টি আইনি সংগঠনকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে—এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাতিরেড্ডির করা বিশ্লেষণে অভিযোগ উঠেছে, অনুদান পাওয়া কয়েকটি সংগঠন পুলিশি ভূমিকা সীমিত করা এবং অপরাধীদের প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানের পক্ষে কাজ করে। তবে জেমসের প্রচারশিবির এ […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তর থেকে ছয়টি আইনি সংগঠনকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে—এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাতিরেড্ডির করা বিশ্লেষণে অভিযোগ উঠেছে, অনুদান পাওয়া কয়েকটি সংগঠন পুলিশি ভূমিকা সীমিত করা এবং অপরাধীদের প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানের পক্ষে কাজ করে। তবে জেমসের প্রচারশিবির এ অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
কোমাতিরেড্ডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেমসের দপ্তর মোট ২২ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান বিতরণ করেছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ গেছে এমন কিছু সংগঠনের কাছে, যেগুলোকে প্রতিবেদনে পুলিশবিরোধী কিংবা অপরাধীদের প্রতি নমনীয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অর্থের বড় অংশ এসেছে বাড়ির মালিকদের সুরক্ষায় পরিচালিত একটি কর্মসূচির মাধ্যমে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মোবিলাইজেশন ফর জাস্টিস নামের সংগঠনটি। স্বল্প আয়ের মানুষের আইনি সহায়তায় কাজ করা এই সংস্থাটি ২০২০ সালে পুলিশ বিভাগের বাজেট কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জেমসের দপ্তর থেকে সংস্থাটির অনুদান আগের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে এবং তারা পেয়েছে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ১১৬ ডলার।
লিগ্যাল এইড সোসাইটির বরাদ্দও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংগঠনটি পেয়েছে ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৬ ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামিন, কারাবাস ও বিচার-পূর্ব আটক নিয়ে সংগঠনটির অবস্থান বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই ধরনের বিতর্কে এসেছে নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপও, যারা পেয়েছে ৬৯ লাখ ৭১ হাজার ৩৮৭ ডলার। প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে গৃহহীন মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ সীমিত করার পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া এম্পায়ার জাস্টিস সেন্টারকে দেওয়া হয়েছে ৮১ লাখ ৯২ হাজার ৬১৩ ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি ট্রাফিক আইন প্রয়োগের সময় পুলিশের গাড়ি থামানোর ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। অন্যদিকে লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি ও এর বিভিন্ন শাখা পেয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৫ হাজার ৬১৯ ডলার। প্রতিবেদনে তাদের নিউইয়র্ক শহরের সরকারি স্কুলগুলো থেকে পুলিশ সরানোর দাবির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক ল সেন্টার পেয়েছে ৮২ লাখ ৩৮ হাজার ২১৩ ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি বাফেলো পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর অনুরোধ জানালেও সংগঠনটি সেই উপস্থিতি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয় বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
কোমাতিরেড্ডি আরও দাবি করেছেন, বাড়ির মালিকদের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ এমন সংগঠনগুলোর কাছে গেছে, যেগুলো পুলিশবিরোধী অবস্থান নেয়। তাঁর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কর্মসূচির অর্থ পাওয়া প্রায় সব ‘অপরাধ বিষয়ে নমনীয়’ সংগঠন আবাসনসুরক্ষার চেয়ে অপরাধসংক্রান্ত আইনি সহায়তা ও অভিবাসন কার্যক্রমে বেশি ব্যয় করে।
তবে জেমসের প্রচারশিবির এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য, বাড়ির মালিকদের সুরক্ষা কর্মসূচি নিউইয়র্কের হাজারো বাসিন্দাকে বাড়ি হারানো থেকে বাঁচাতে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা ও আবাসনসংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে আসছে। প্রচারশিবিরের দাবি, কোমাতিরেড্ডি নির্বাচনী সুবিধার জন্য বেছে বেছে তথ্য তুলে ধরে এই কর্মসূচিকে আক্রমণ করছেন।
জেমসের প্রচারশিবির আরও বলেছে, কর্মসূচিটির মাধ্যমে দলিল জালিয়াতি, বাড়ি দখলের প্রতারণা এবং শোষণমূলক ঋণদাতাদের হাত থেকে পরিবারগুলোর বাড়ি রক্ষায় সহায়তা করা হয়। তাদের মতে, অনুদান পাওয়া সংগঠনগুলো মূলত আবাসনসংক্রান্ত আইনি সেবা দেওয়ার কাজেই যুক্ত।
কোমাতিরেড্ডি বর্তমানে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে জেমসের প্রতিদ্বন্দ্বী। জেমস তৃতীয় মেয়াদে অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন। ফলে সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগটি এখন তাঁদের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।