যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের জন্মদিনে পৃথকভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক, সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ এবং আসন্ন জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এসব আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, রোববার (১৪ জুন) পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের জন্মদিনে পৃথকভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক, সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ এবং আসন্ন জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এসব আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, রোববার (১৪ জুন) পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী টেলিফোন আলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতেই রুশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। পরে দুই নেতা রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সম্ভাব্য রাশিয়া সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ক্রেমলিন আরও দাবি করেছে, আলোচনার সময় পুতিন ট্রাম্পকে বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী হন, তাহলে তাকে মস্কো সফর করতে হবে। তবে জেলেনস্কি অতীতে এমন প্রস্তাব একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং রাশিয়ার শর্তে কোনো আলোচনায় বসতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
এ ছাড়া ক্রেমলিনের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এবং সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তির বিষয়েও অবহিত করেছেন। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া এসব তথ্য সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি তারা।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কিরও পৃথক টেলিফোন আলাপ হয়েছে। আলাপের শুরুতে জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।
পরবর্তীতে দুই নেতা ইউক্রেন যুদ্ধ, শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। জেলেনস্কি বলেন, বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় এসব বিষয় নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা করার বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের পৃথক আলোচনা ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে জি-৭ সম্মেলনের আগে এই যোগাযোগ ভবিষ্যৎ আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ফোনালাপগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ইত্তেফাক