নরসিংদীতে একটি কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্মম এই ঘটনার ভিডিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নেমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে অন্য […]
ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীতে একটি কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্মম এই ঘটনার ভিডিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নেমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দি সেতু এলাকায় গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক যুবক একটি কুকুরের গলায় ইট বেঁধে সেটিকে নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণে তিনি গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
নরসিংদী মডেল থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার কামারগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং আবদুর রবের ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কুকুরটি স্থানীয় এক নারী দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করতেন। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ির আশপাশে গর্ত করায় বিরক্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কুকুরটির গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ করেন। এছাড়া ঘটনাটিতে অন্য কেউ প্ররোচনা বা সহায়তা করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নরসিংদী মডেল থানার কর্মকর্তা এ আর এম আল মামুন জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রাণী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার উদাহরণ নয়, বরং সমাজে সহিংস ও অমানবিক আচরণেরও প্রতিফলন। তারা প্রাণী নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন মহল থেকে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার ঘটনা কমে আসবে।