ফরিদপুরের একজন পরিচিত জুলাই যোদ্ধা আবরাব নাদিম ইতু স্বেচ্ছায় সরকারি গেজেট (নং-২৪৮৯) এবং সরকারি সব ধরনের সুবিধা থেকে তার নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি একটি আবেদনপত্র জমা দিয়ে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক করেছেন। তার এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি ফরিদপুরে চলমান দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক অনিয়মের অব্যাহত প্রবণতাকে উল্লেখ করেছেন, যা তার […]
ফরিদপুরের একজন পরিচিত জুলাই যোদ্ধা আবরাব নাদিম ইতু স্বেচ্ছায় সরকারি গেজেট (নং-২৪৮৯) এবং সরকারি সব ধরনের সুবিধা থেকে তার নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি একটি আবেদনপত্র জমা দিয়ে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক করেছেন। তার এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি ফরিদপুরে চলমান দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক অনিয়মের অব্যাহত প্রবণতাকে উল্লেখ করেছেন, যা তার মতো একটি আইকনিক আন্দোলনকারীর জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
আবরাব নাদিম ইতু বলেন, তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় আহত হয়েছিলেন, যা ছিল দেশের উন্নয়ন ও দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনের জন্য একটি সংগ্রাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সেই চেতনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, “দুর্নীতি ও লুটপাট মুক্ত দেশ” গঠনের স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি, বরং ফরিদপুরের বিভিন্ন অফিস এবং প্রশাসনিক বিভাগে আগের মতো অনিয়ম ও সিন্ডিকেট অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজের বিবেকের তাড়নায় সরকারি গেজেট থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন।
আবরাব নাদিম ইতুর এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকে তার সাহসী এ পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা ব্যাপক হয়েছে, যেখানে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “সরকার যদি সাধারণ মানুষের পেনশন ঠিকমতো দিতে পারে না, তাহলে জুলাই গেজেটে নাম থাকার কোন প্রয়োজন?”
এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির দুর্নীতিবিরোধী চেতনার উপর এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি বোঝায় যে, জনগণের আস্থা অর্জন করা ছাড়া কোনো সরকার বা প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। একজন যোদ্ধার এই পদক্ষেপ দেশের অন্যান্য সচেতন নাগরিককেও অনুপ্রাণিত করতে পারে যে, তাদের অধিকারের জন্য অবিচল থাকা প্রয়োজন।
আবরাব নাদিম ইতু যুগান্তরকে জানিয়েছেন, তার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তিনি স্পষ্ট করেছেন, “আমরা কখনোই সরকারি সুবিধার জন্য লড়াই করিনি, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশ ও মানুষের উন্নতি।” তার এই বক্তব্য বর্তমান প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি কঠিন প্রশ্নছক, যা প্রমাণ করে যে জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে ফারাক রয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন এই আবেদন গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, “আমরা আবেদনটি পেয়ে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করবো।”
আবরাব নাদিম ইতুর এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ব্যক্তিগত পদক্ষেপ নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি শক্তিশালী সংকেত। দুর্নীতির মতো অসংখ্য সমস্যার মুখোমুখি হয়ে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করে। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এখন সময় এসেছে সুষ্ঠু সংস্কারের।
এই খবরটি দেশের নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি বোঝাবে যে, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয়, জনগণেরও। সক্রিয় নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে জাগ্রত থেকে সমাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব।