দীর্ঘ বিরতির পর ৭ নভেম্বরকে আবারও ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং এদিন সরকারি ছুটি থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দিবসটি আগে সরকারি ছুটির তালিকায় থাকলেও প্রায় ১৬ বছর পর আবার তা ফিরিয়ে আনা হলো। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে […]
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ বিরতির পর ৭ নভেম্বরকে আবারও ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং এদিন সরকারি ছুটি থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দিবসটি আগে সরকারি ছুটির তালিকায় থাকলেও প্রায় ১৬ বছর পর আবার তা ফিরিয়ে আনা হলো।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসটি আগে ছিল, এখন পুনরায় তা চালু করা হয়েছে।” সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৭ নভেম্বর সরকারি অফিস, আদালত ও বিভিন্ন দপ্তরে সাধারণ ছুটি পালিত হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ একটি বহুল আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পথ তৈরি হয়। এ কারণেই দলটি দিনটিকে বহু বছর ধরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বিএনপি সরকারের সময় ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি ছিল, যা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার বাতিল করে। নতুন সিদ্ধান্তে সেই ছুটি আবারও ফিরিয়ে আনা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি এই দিবসকে সরকারি ছুটির মর্যাদা দেওয়ার দাবি জোরালোভাবে তুলে আসছিল।
এছাড়া মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ জুলাই ‘পল্লী উন্নয়ন দিবস’ পালনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে এদিন কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই সিদ্ধান্ত সরকারের দিবসপঞ্জি ও জাতীয় ছুটির কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ৭ নভেম্বর নতুনভাবে যুক্ত হবে, যা প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং কার্যক্রমের সূচিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।