উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—প্রথমবারের মতো যৌথভাবে আয়োজন করছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসর শুরু হওয়ার প্রাক্কালে আয়োজক দেশগুলোর পারস্পরিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিন দেশের ১৬টি শহরে। ফুটবল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের আগমন ঘটলেও আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক […]
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—প্রথমবারের মতো যৌথভাবে আয়োজন করছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসর শুরু হওয়ার প্রাক্কালে আয়োজক দেশগুলোর পারস্পরিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিন দেশের ১৬টি শহরে। ফুটবল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের আগমন ঘটলেও আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য, অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যুতে তৈরি হওয়া উত্তেজনা পুরো আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও বক্তব্য উত্তর আমেরিকার এই তিন দেশের সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা এবং মেক্সিকোকে ঘিরে কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
কানাডা ও মেক্সিকো উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও সাম্প্রতিক শুল্কনীতি এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন পণ্যের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে কানাডীয় পর্যটকের সংখ্যাও কমেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে তিন দেশের মধ্যে সমন্বয়ও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সমর্থকদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত, ভিসা প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনটি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করতে হলে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। এ ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন প্রায়ই কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে থাকে।
মেক্সিকোতে বিশ্বকাপকে ঘিরে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, পরিবহন ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা চলছে। দেশটির সরকার অবশ্য আশাবাদী যে বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেক্সিকোর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে কানাডা বিশ্বকাপকে উত্তর আমেরিকার আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে দেখছে। যদিও রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে, তবুও দেশটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই টুর্নামেন্ট দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের প্রতিযোগিতা নয়; এটি তিন প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কেরও একটি বড় পরীক্ষা। আগামী কয়েক সপ্তাহে বিশ্বকাপ আয়োজন কতটা সফল হয় এবং দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর থাকে, সেটিই নির্ধারণ করবে এই যৌথ আয়োজনকে ইতিহাস কীভাবে মূল্যায়ন করবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা