রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই কম্পনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্টের তথ্যমতে, দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা […]
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই কম্পনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্টের তথ্যমতে, দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি কম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ৫ বলে উল্লেখ করেছে।
ভূমিকম্পের শক্ত ঝাঁকুনি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে সাতক্ষীরা জেলায়। নামাজরত অবস্থায় অনেক মানুষ আতঙ্কে মসজিদ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান। একই সঙ্গে খুলনা, কুষ্টিয়া, পিরোজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও কম্পন টের পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায়ও ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে। কম্পনের সময় আতঙ্কে অনেকেই বাড়ি ও অফিস ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। দোকানপাট ও ব্যস্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কম্পনে শহরের কয়েকটি পুরনো ভবন হেলে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মাসের প্রথম ২৬ দিনেই অন্তত আটবার কেঁপে উঠেছে বিভিন্ন অঞ্চল। এর আগে বুধবার রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার কম্পনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিন দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১ এবং মিয়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল। পরবর্তীতে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুই দফা এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ২৬ দিনেই আটবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ, যা জনমনে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।