বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের […]
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া তদন্তের আওতায় থাকা আরও ৪৫ দেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
ইউএসটিআর এক বিবৃতিতে জানায়, এই সিদ্ধান্ত সেকশন ৩০১ তদন্তের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে নতুন শুল্ক কাঠামো প্রয়োজন।
তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যকে এই অতিরিক্ত শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, বিরল খনিজ, গরুর মাংস, কফি, কিছু ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পণ্য এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ।
একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন টেক্সটাইল ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও বস্ত্রপণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর চাপ বাড়তে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হলে রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে গণশুনানি। শুনানির পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।