সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

ফিচার
২:৪৩ পিএম, ৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ-নেপালের বিক্ষোভের মতো দ্রুত বাড়ছে ভারতের ‘ককরোচ পার্টি’

ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নতুন এক যুব রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি অল্প সময়েই দেশজুড়ে তরুণদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ায় তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অনলাইনভিত্তিক বিক্ষোভ আন্দোলনের মতোই ভারতের এই নতুন প্রবণতাও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলতে পারে। […]

বাংলাদেশ-নেপালের বিক্ষোভের মতো দ্রুত বাড়ছে ভারতের ‘ককরোচ পার্টি’

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নতুন এক যুব রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি অল্প সময়েই দেশজুড়ে তরুণদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ায় তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অনলাইনভিত্তিক বিক্ষোভ আন্দোলনের মতোই ভারতের এই নতুন প্রবণতাও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলতে পারে।

আগামী শনিবার নয়াদিল্লিতে প্রথম বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসের মাঝামাঝি যাত্রা শুরুর পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ইতোমধ্যে তাদের সদস্যসংখ্যা ১০ লাখ অতিক্রম করেছে।

এই আন্দোলনের সূচনা করেন ভারতের রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ এবং বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এক শুনানিতে কিছু বেকার তরুণকে ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করার পর এর প্রতিবাদে এই প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে।

সংগঠনটি নিজেদেরকে “অলস ও বেকার তরুণদের কণ্ঠস্বর” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোতে মূলত বেকারত্ব, উন্নয়ন বৈষম্য, চাকরির সংকট এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় তরুণদের হতাশা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে। নেপাল ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনের মতো ভারতের তরুণরাও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের এশিয়া গবেষণা প্রধান রিমা ভট্টাচার্য বলেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রত্যাশা ভেঙে পড়ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পরও কর্মসংস্থান সংকট কমছে না, বরং হতাশা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ভারতের অর্থনীতিতেও চাপ বেড়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, মূল্যস্ফীতি এবং রুপির দুর্বলতা তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলছে। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে আইটি খাতে নিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আগামী শনিবারের বিক্ষোভে সরকারের শিক্ষা ও চাকরিবিষয়ক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভর্তি ও চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে সামনে এনে তারা আন্দোলন জোরদার করছে।

ককরোচ জনতা পার্টির এক মুখপাত্র বলেন, “রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভেতরের পচন এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছে এবং জবাবদিহিতা চাইছে।”

সংগঠনটি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সম্প্রতি পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, অনলাইনে জনপ্রিয়তা থাকলেও বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে হলে মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। তাদের মতে, শনিবারের সমাবেশই নির্ধারণ করবে এই আন্দোলন শুধুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ক্ষোভ, নাকি ভবিষ্যতের বড় রাজনৈতিক বার্তা।

সূত্র: সিএনবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ