সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

খেলাধুলা
৪:৪৩ পিএম, ১৮ মে ২০২৬

বিশ্বকাপে এআই প্রযুক্তির বড় বিপ্লব, বদলে যাচ্ছে ফুটবলের ধরন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, প্রযুক্তির নতুন এক যুগের সূচনাও হতে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে এবারের আসরকে দেখা হচ্ছে ভবিষ্যতের ফুটবলের পরীক্ষাগার হিসেবে। খেলার কৌশল বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম পরিচালনা—সব জায়গাতেই থাকবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ। মোট […]

বিশ্বকাপে এআই প্রযুক্তির বড় বিপ্লব, বদলে যাচ্ছে ফুটবলের ধরন
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, প্রযুক্তির নতুন এক যুগের সূচনাও হতে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে এবারের আসরকে দেখা হচ্ছে ভবিষ্যতের ফুটবলের পরীক্ষাগার হিসেবে। খেলার কৌশল বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম পরিচালনা—সব জায়গাতেই থাকবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ। মোট ১০৪ ম্যাচের টুর্নামেন্ট শুরু হবে আগামী ১১ জুন। তবে এবারের আসরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠছে এআইভিত্তিক প্রযুক্তি।

প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে আলাদা এআই মডেল। এই প্রযুক্তি প্রতিপক্ষের খেলার ধরন বিশ্লেষণ করবে ভিডিও, রিয়েল-টাইম ডেটা ও থ্রিডি সিমুলেশনের মাধ্যমে। কোচরা আগেভাগেই বুঝতে পারবেন কৌশল পরিবর্তন করলে ম্যাচের পরিস্থিতি কেমন হতে পারে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিশ্লেষণও আরও নিখুঁতভাবে করা যাবে।

‘ফুটবল এআই প্রো’ নামে পরিচিত এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেনোভো। বিশ্বকাপের প্রযুক্তি অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি শত শত মিলিয়ন ফিফা ডেটা বিশ্লেষণ করে দুই হাজারের বেশি সূচকে কাজ করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। পাসিং, প্রেসিং, মুভমেন্ট, আক্রমণ ও রক্ষণভাগের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে তা চার্ট, ভিডিও কিংবা লিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ফুটবলে ধনী ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর মধ্যকার প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমাতে সাহায্য করবে। আগে উন্নত বিশ্লেষণ সুবিধা বড় দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন এআই ছোট দলগুলোকেও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী হতে সহায়তা করবে।

এবারের বিশ্বকাপে অফসাইড প্রযুক্তিতেও বড় পরিবর্তন আসছে। খেলোয়াড়দের শরীর এক সেকেন্ডের মধ্যে ডিজিটালি স্ক্যান করে তাদের নিখুঁত থ্রিডি মডেল তৈরি করা হবে। এর ফলে ভিএআরের সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে। দর্শকরাও সহজে বুঝতে পারবেন অফসাইডের জটিল বিশ্লেষণ।

স্টেডিয়ামের বাইরেও প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি ভেন্যুর জন্য তৈরি করা হবে ‘ডিজিটাল টুইন’, যেখানে রিয়েল-টাইমে দেখা যাবে দর্শকের চাপ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য।

ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এবারের বিশ্বকাপ নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টে ৯০ পেটাবাইটের বেশি তথ্য তৈরি হবে, যা আগের বিশ্বকাপের তুলনায় বহু গুণ বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ব্যবহার, ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল কার্যক্রম মিলিয়ে এই পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্বকাপ ঘিরে পরিবহন ব্যবস্থাতেও আনা হচ্ছে আধুনিক পরিবর্তন। বিভিন্ন শহরে চালু করা হবে রোবোট্যাক্সি বা স্বয়ংচালিত গাড়ি। দর্শকরা চালকবিহীন গাড়িতে করে স্টেডিয়ামে যেতে পারবেন। এছাড়া মাঠ ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনায় মানবসদৃশ রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের প্রতিযোগিতা নয়, বরং ক্রীড়া প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে তারও বড় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ