সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

খেলাধুলা
১:০৬ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালের এক টিকিটের দাম ২৮ কোটি টাকা!

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে টিকিট, হোটেল, যাতায়াত এমনকি পার্কিং খরচও পৌঁছে গেছে অবিশ্বাস্য উচ্চতায়। একটি ফাইনাল টিকিটের দামই বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি টাকা—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বকাপ ফাইনালের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার স্বপ্ন এবার বড় অঙ্কের অর্থের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে […]

বিশ্বকাপ ফাইনালের এক টিকিটের দাম ২৮ কোটি টাকা!

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে টিকিট, হোটেল, যাতায়াত এমনকি পার্কিং খরচও পৌঁছে গেছে অবিশ্বাস্য উচ্চতায়। একটি ফাইনাল টিকিটের দামই বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি টাকা—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বকাপ ফাইনালের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার স্বপ্ন এবার বড় অঙ্কের অর্থের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের জন্য ফিফার অনুমোদিত পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে চারটি টিকিট তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা।

এই টিকিট বেচাকেনা থেকে আয়ও কম নয়। প্রতিটি লেনদেনে বিক্রেতা ও ক্রেতা—দুই পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন নিচ্ছে ফিফা। ফলে চারটি টিকিট বিক্রি হলেই সংস্থাটির আয় দাঁড়াচ্ছে বিপুল অঙ্কে।

সবচেয়ে কম দামের টিকিটও সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামও প্রায় ১০ হাজার ৯২৩ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩ লাখেরও বেশি।

শুধু টিকিট নয়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আবাসন ও যাতায়াত খরচও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। হোটেল ভাড়া অনেক জায়গায় চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচের সময় একটি হোটেল কক্ষের ভাড়া ১৫৭ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮৮২ ডলারে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে চার লাখ টাকারও বেশি।

খরচের তালিকায় পার্কিংও বাদ যায়নি। শুধু স্টেডিয়ামে গাড়ি রাখার জন্য গুনতে হবে প্রায় ২২৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আগে যেখানে ফ্যান জোনে প্রবেশ ছিল সহজ, এবার সেখানে ঢুকতে হলে ভক্তদের গুনতে হবে ১২ ডলারের বেশি। এমনকি যে ট্রেন ভাড়া ছিল ১৩ ডলার, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ ডলারে।

এই ব্যয়বহুল আয়োজন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ফিফা বিলিয়ন ডলার আয় করলেও দর্শকদের সুবিধার জন্য কিছুই করছে না। তার মতে, সাধারণ সমর্থকদের কথা মাথায় না রেখে শুধু মুনাফাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য একে ফুটবলের উন্নয়নের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, এত উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্বকাপ সাধারণ মানুষের খেলা থেকে ধীরে ধীরে করপোরেট আয়োজন হয়ে উঠছে।

ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলাও এই আকাশছোঁয়া খরচের সমালোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টেলিগ্রাফ স্পোর্টসের অনুসন্ধান অনুযায়ী, শুধু ইংল্যান্ডের একজন সমর্থককেও যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।

সমালোচনার মুখে ফিফা কিছু তুলনামূলক সস্তা টিকিট ছাড়লেও ‘গতিশীল মূল্য নির্ধারণ’ পদ্ধতির কারণে সেগুলোরও নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ফুটবল কি সাধারণ ভক্তদের আনন্দের মঞ্চ, নাকি এখন তা কেবলই বাণিজ্যের বিশাল ক্ষেত্র?

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ