সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
২:৫৪ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬

বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকির মুখে থাকা লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে। আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং […]

বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকির মুখে থাকা লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, “এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে। আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।”

মঙ্গলবার চীনের দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়। বরং এটি সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ। তিনি বলেন, “আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।”

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২ সামনে রেখে বাংলাদেশ তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চায়।

প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদাভিত্তিক হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ ও কার্যকরীকরণের প্রয়োজন রয়েছে।

তৃতীয়ত, প্রশমন কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিযোজনকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিষয়।” তিনি উল্লেখ করেন, ইউএনসিটিএডি’র মতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে পর্যাপ্ত নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে একটি সম্মুখসারির রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি।”

তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন দেশের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার বিষয়।”

জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি মহাপরিকল্পনার আওতায় দেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজ আধুনিকীকরণের কাজও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করেছে সরকার। স্কুল, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাপমাত্রা হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে কাজ করছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মানদণ্ড বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসের মাধ্যমে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

তিনি বলেন, পাটজাত পণ্য ও বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব শিল্পকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সবুজ বিনিয়োগ ও কার্বন-ক্রেডিটের সুযোগ সম্প্রসারণে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯টিই বাংলাদেশের।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিশ্বজুড়ে নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”

তিনি বলেন, কপ-৩১-এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনরায় নিশ্চিত করা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ