যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে সূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ভারতে, যেখানে আবারও বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। সোমবার এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে সূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ভারতে, যেখানে আবারও বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম।
সোমবার এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারের ঘরে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ৫ শতাংশের বেশি কমে প্রায় ৯১ ডলারে লেনদেন হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটিই ছিল তেলের অন্যতম বড় দরপতন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে আসার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি আবার চালু হতে পারে—এমন আশাবাদ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও এলএনজি এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি বড় সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে বাজারে আশাবাদ তৈরি হলেও বিশ্লেষকেরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাদের মতে, অতীতেও একাধিকবার শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এবার কিছুটা সাবধানী মনোভাব নিয়েই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে তেলের দাম কমার খবর এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক বড় উত্থান দেখিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোতেও বাজারে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতে আবারও জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। সোমবার নতুন করে লিটারপ্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দুই রুপির বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম ১০২ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের মধ্যেই একাধিকবার দাম বাড়ানো হলো দেশটিতে।
ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন উচ্চমূল্যে তেল আমদানি করেও দেশীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হওয়ায় তারা ব্যাপক লোকসানে পড়েছে। সেই চাপ সামাল দিতেই সরকারকে মূল্য সমন্বয়ের পথে হাঁটতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।