ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ দিন পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৩৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উদ্ধারকারীরা […]
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ দিন পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৩৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। তাই বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য মরদেহ উদ্ধার এবং নিখোঁজদের শনাক্ত করা।
এদিকে বিদেশে অবস্থানরত ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বজনদের খোঁজে আবেদন জানাচ্ছেন। রাজধানীর কাছাকাছি কারাবায়েদা শহরের একটি সাততলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া প্রবীণ দম্পতি পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন তাদের স্বজনরা।
উদ্ধারকারীদের মতে, ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে অন্তত ১০টি বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব অপসারণ করতে হবে, যার জন্য ভারী ক্রেন ও উন্নত উদ্ধার সরঞ্জাম প্রয়োজন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৫৯ হাজার। এর মধ্যে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও রয়েছে।
সরকারি তথ্য ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের মধ্যে বড় ধরনের এই ব্যবধান নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভূমিকম্পের আগেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছিল ভেনেজুয়েলা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের আগেই দেশটিতে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল। ভূমিকম্পের পর নতুন করে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি নতুন সামরিক ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
গৃহহীনদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক প্রকল্প পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু করেছে সরকার। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ কাজ শেষ করে আবাসন বুঝিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, চিকিৎসাসেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনই ভেনেজুয়েলার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।