সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:১০ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মুখোমুখি লেবানন-ইসরায়েল, যুদ্ধবিরতি শর্তে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ অউনের আহ্বানে এই বৈঠকে অংশ নিতে সম্মতি দিয়েছে তেলআবিব, যা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকের মূল এজেন্ডা হবে যুদ্ধবিরতির শর্ত, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের […]

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মুখোমুখি লেবানন-ইসরায়েল, যুদ্ধবিরতি শর্তে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ অউনের আহ্বানে এই বৈঠকে অংশ নিতে সম্মতি দিয়েছে তেলআবিব, যা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকের মূল এজেন্ডা হবে যুদ্ধবিরতির শর্ত, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে সম্ভাব্য বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা জানিয়েছে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তি না থাকলেও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে তারা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হচ্ছে এই সংগঠনটি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহ এখনো ইসরায়েলের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বৈঠকের খবর প্রকাশের পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, বর্তমান লেবানিজ সরকার জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছে না। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

এদিকে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, বুধবারের ব্যাপক বোমাবর্ষণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ২২৩ জন। ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৮০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। যদিও এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈরুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই আগামী মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে আনুষ্ঠানিক আলোচনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বৈঠকে যদি যুদ্ধবিরতির মৌলিক শর্তগুলো নিয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হতে পারে, তাহলে পরবর্তী সময়ে সরাসরি বিস্তৃত আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

সব মিলিয়ে, মঙ্গলবারের এই বৈঠক শুধু লেবানন-ইসরায়েল সম্পর্ক নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ