যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার পড়ছে সমুদ্রের প্রাণীকুলের ওপরও। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে তিমিদের জীবন এখন নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট বদলে যাওয়ায় তিমিদের আবাসস্থলে বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা। ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার পড়ছে সমুদ্রের প্রাণীকুলের ওপরও। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে তিমিদের জীবন এখন নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট বদলে যাওয়ায় তিমিদের আবাসস্থলে বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা।
২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে হুথি হামলার কারণে বহু জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত পথ এড়িয়ে চলতে শুরু করে। পরে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় হরমুজ প্রণালিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বহু জাহাজ এখন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ওই রুট দিয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছরের একই সময় যেখানে ৪৪টি জাহাজ গিয়েছিল, এবার সেখানে গেছে অন্তত ৮৯টি।
এই অঞ্চল বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তিমি আবাসস্থলগুলোর একটি। এখানে সাউদার্ন রাইট তিমি, হাম্পব্যাক তিমি, ব্রাইডস তিমিসহ বহু সামুদ্রিক প্রাণীর বিচরণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ১১ থেকে ১৩ হাজার হাম্পব্যাক তিমির বিশাল দল এই অঞ্চল দিয়ে অ্যান্টার্কটিকার দিকে যাতায়াত করে।
গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুতগতির কার্গো জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে তিমিদের মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। অনেক সময় জাহাজের আঘাতে তিমি মারা গেলেও তার দেহ গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যায়, ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয় না।
প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলস ভারমিউলেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে জাহাজকর্মীরা তিমি দেখার ভিডিও পোস্ট করলেও বাস্তবে সেই জাহাজগুলোই হয়তো তিমিদের গায়ে আঘাত করছে। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে দ্রুতগতির জাহাজের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও তিমিদের খাদ্যসংগ্রহের এলাকা বদলাচ্ছে। ফলে তারা এখন এমন অঞ্চলে বেশি যাচ্ছে, যেখানে জাহাজ চলাচলও বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় বহু তিমির মৃত্যু সরাসরি জাহাজের ধাক্কার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে জাহাজের গতি কমানো, রুট কিছুটা সরিয়ে নেওয়া এবং তিমির অবস্থান সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে কিছু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি তিমি সুরক্ষায় রুট পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে না, তার প্রভাব পৃথিবীর দূরবর্তী সমুদ্রের প্রাণীকুল পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।