নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের হায়দরাবাদের মালকাজগিরির নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার বি. সুমতি। সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে গভীর রাতে শহরের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে তিনি নিজেই বুঝতে চেয়েছেন নারীরা প্রতিদিন কী ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হন। গত ১ মে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই সাধারণ পোশাকে রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর […]
ছবি: সংগৃহীত
নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের হায়দরাবাদের মালকাজগিরির নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার বি. সুমতি। সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে গভীর রাতে শহরের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে তিনি নিজেই বুঝতে চেয়েছেন নারীরা প্রতিদিন কী ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হন।
গত ১ মে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই সাধারণ পোশাকে রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দিলসুখনগর এলাকার একটি বাসস্ট্যান্ডে একা অবস্থান করেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই তিন ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন ব্যক্তি তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ ও অশালীন কথাবার্তা বলেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই মাদকাসক্ত ছিলেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিলেন কলেজপড়ুয়া তরুণ ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি। তারা বুঝতেই পারেননি যে যাকে উত্যক্ত করছেন, তিনি একজন জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা।
কমিশনারের সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে অবস্থান করা সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা এসে অভিযুক্তদের আটক করেন।
পরে কমিশনার সুমতি জানান, এই অভিযানের উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং নারীদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মামলা না করে থানায় নিয়ে কাউন্সেলিং করা হয়। তাদের অভিভাবকদের ডেকে পাঠিয়ে নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং হয়রানির আইনি পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।
তিনি আরও জানান, এটি তার প্রথম ছদ্মবেশী অভিযান নয়। প্রায় ২৫ বছর আগে কর্মজীবনের শুরুতে কাজীপেট রেলওয়ে স্টেশনের ডিএসপি থাকাকালেও একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
তেলেঙ্গানা ক্যাডারের এই কর্মকর্তা এর আগে স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।