যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাবে ইরানের পাল্টা অবস্থানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “আবর্জনা” বলে প্রত্যাখ্যান করলেও তাতে বিশেষ ভ্রুক্ষেপ করছে না তেহরান। বরং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সোমবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো উসকানি বা হামলার “দাঁতভাঙা জবাব” […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাবে ইরানের পাল্টা অবস্থানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “আবর্জনা” বলে প্রত্যাখ্যান করলেও তাতে বিশেষ ভ্রুক্ষেপ করছে না তেহরান। বরং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
সোমবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো উসকানি বা হামলার “দাঁতভাঙা জবাব” দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তেহরানের হাতে সব ধরনের বিকল্প প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রতিপক্ষরা যেকোনো মুহূর্তে বিস্মিত হতে পারে।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কোনো গুরুত্ব তাদের কাছে নেই। তার ভাষায়, ট্রাম্প কোনো পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলে ধরে নিতে হবে সেটি আসলে কার্যকর ও সঠিক কোনো প্রস্তাব।
ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তারা ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার জন্য কোনো আলোচনা করছে না। অন্যদিকে ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যে জবাব পাঠিয়েছে, তা তার কাছে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য”।
সংঘাতের আবহে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে আরও বলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে দীর্ঘ ও “চমৎকার” আলোচনা করেছেন। তার দাবি, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি তার একান্ত এখতিয়ার।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। সে সময় ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
পরে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী সমঝোতায় রূপ নিতে পারেনি। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। তবে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা সামরিক প্রস্তুতি পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থিতিশীলতার মুখে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর