সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
৭:২৮ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৫

মিয়ানমারে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ছে: বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে আতঙ্কের ছায়া

গত কয়েকদিন ধরেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শীর্ষ পর্যায়ের সশস্ত্র সংঘর্ষ চলমান। এর প্রভাব স্পষ্টভাবেই অনুভূত হচ্ছে বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গিয়েছে, যা স্থানীয় এবং আশেপাশের এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউপির তুমব্রু পশ্চিমপাড়া এবং […]

মিয়ানমারে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ছে: বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে আতঙ্কের ছায়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

গত কয়েকদিন ধরেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শীর্ষ পর্যায়ের সশস্ত্র সংঘর্ষ চলমান। এর প্রভাব স্পষ্টভাবেই অনুভূত হচ্ছে বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গিয়েছে, যা স্থানীয় এবং আশেপাশের এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউপির তুমব্রু পশ্চিমপাড়া এবং উখিয়ার থাইংখালী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, রাত ১১টা থেকে ১টার মধ্যে গোলাগুলির শব্দ ছিল সবচেয়ে তীব্র। ঘুমধুম ও থাইংখালীর শিক্ষক বাশার জানান, “রাত জুড়ে এমন তীব্র গোলাগুলির শব্দ আমরা আগে কখনো শোনিনি, পুরো এলাকা আতঙ্কে ভরে গেছে।”

স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, মিয়ানমারের মংডু জেলার ঢেকুবনিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং রাখাইনদের নিয়ন্ত্রণাধীন আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। আরাকান আর্মি দেশটির জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গত দেড় বছর ধরে লড়াই চালিয়ে রাখাইনের বেশিরভাগ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যদিও সংঘাত এখনও সম্পূর্ণ থামেনি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, সংঘর্ষের ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমান্ত থেকে অনেক দূরে, তাই বাংলাদেশের সীমান্তে সরাসরি গুলির কোনো আঘাতের সম্ভাবনা নেই। ঘুমধুম বিওপি ও উখিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডাররা নিশ্চিত করেছেন, তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

লে. কর্নেল এসএম খায়রুল আলম ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, “ঘুমধুম ও বালুখালী বিওপির কাছাকাছি সীমান্তের ওপারে গুলির শব্দ শোনা গেলেও, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ছবির মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, সংঘর্ষের গুলিতে বাংলাদেশে আশ্রিত এক রোহিঙ্গা মো. ইয়াসের (১৭) আহত হয়েছে। তবে বিজিবি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্যের কোনো প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করেনি। তাদের মতে, ঘটনাটি ক্যাম্প ১২ এর সীমান্ত থেকে অনেক দূরে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো গুলির প্রভাব নেই।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান এই সংঘর্ষের প্রভাব শুধুমাত্র সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশেও উদ্বেগ ও নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠতে পারে, যা মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার ও বিজিবি কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি প্রয়োজন সীমান্তে নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের এই প্রেক্ষাপটে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, যাতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা যায়।

সূত্র:

  • স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক বাশার
  • বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য
  • রিপোর্টসমূহ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের উপর
Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ