২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও নিজেদের অনন্য সংস্কৃতি ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলেন জাপানের ফুটবল সমর্থকেরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ২-২ গোলের ড্রয়ের পর ম্যাচ শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন তারা। রোববার টেক্সাসের আরলিংটনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচ শেষে জাপানি সমর্থকদের হাতে দেখা যায় পরিচিত নীল রঙের ব্যাগ। ম্যাচ চলাকালে এই ব্যাগগুলো তারা উৎসব ও […]
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও নিজেদের অনন্য সংস্কৃতি ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলেন জাপানের ফুটবল সমর্থকেরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ২-২ গোলের ড্রয়ের পর ম্যাচ শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন তারা।
রোববার টেক্সাসের আরলিংটনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচ শেষে জাপানি সমর্থকদের হাতে দেখা যায় পরিচিত নীল রঙের ব্যাগ। ম্যাচ চলাকালে এই ব্যাগগুলো তারা উৎসব ও সমর্থনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করলেও শেষ বাঁশি বাজার পর সেগুলোই পরিণত হয় আবর্জনা সংগ্রহের ব্যাগে। তারা নিজেদের বসার স্থান ও আশপাশের গ্যালারি থেকে প্লাস্টিকের কাপ, বোতল ও অন্যান্য ময়লা কুড়িয়ে পরিষ্কার করেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে জাপানি সমর্থকদের এই আচরণ নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য তারা ধারাবাহিকভাবে বজায় রেখে আসছেন। কাতার বিশ্বকাপসহ আগের আসরগুলোতেও ম্যাচ শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তারা।
২০ বছর বয়সী জাপানি সমর্থক এইতা তানাকা বলেন, “এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয়, কোনো জায়গা ব্যবহার করলে সেটিকে আগের চেয়ে আরও পরিচ্ছন্ন অবস্থায় রেখে যেতে হবে।” তিনি জানান, জাপানের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করে, ফলে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তাদের জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠেছে।
জাপানি সমর্থকদের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। অনেকেই তাদের “বিশ্বকাপের সেরা সমর্থক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও তাদের এই দায়িত্বশীল আচরণকে ক্রীড়া সংস্কৃতির উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
ম্যাচটিও ছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ। নেদারল্যান্ডস দুইবার এগিয়ে গেলেও জাপান দুবারই সমতায় ফিরে আসে। শেষ দিকে দাইচি কামাদার গোল জাপানকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেয়। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে গ্যালারিতে জাপানি সমর্থকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানি সমাজে অন্যের প্রতি সম্মান, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং দলগত সংস্কৃতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই মূল্যবোধই বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরেও প্রতিফলিত হয়। ম্যাচ শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে তারা আবারও দেখিয়ে দিলেন, ক্রীড়াসুলভ আচরণ শুধু মাঠের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, মাঠের বাইরেও তার একটি শক্তিশালী বার্তা রয়েছে।