সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

অন্যান্য
৮:৫৫ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় দায়িত্ব নিয়ে কী করবেন?

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সম্প্রতি ওয়াশিংটনে তার মনোনয়ন শুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারসহ ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে কাজ করবেন, যা দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে […]

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় দায়িত্ব নিয়ে কী করবেন?
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সম্প্রতি ওয়াশিংটনে তার মনোনয়ন শুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারসহ ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে কাজ করবেন, যা দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

ক্রিস্টেনসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। তিনি বলেন, “আগামী বছরের নির্বাচনে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সমাবেশ করবে, যা কয়েক দশকের মধ্যে দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।”

এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও অংশীদারিত্ব অপরিহার্য হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ক্রিস্টেনসেনের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের গুরুত্ব

ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের ক্যারিয়ার সদস্য ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে দীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যার মধ্যে ঢাকায় তার পূর্ববর্তী দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত। এই অভিজ্ঞতা তাকে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্ব বুঝতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশকে “নতুন এশীয় টাইগার” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সুযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ

ক্রিস্টেনসেন রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। গত আট বছর ধরে বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, অনুমোদিত হলে তিনি বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধানে কাজ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ

ক্রিস্টেনসেন শেষ পর্যন্ত বলেন, যদি তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদিত হন, তবে তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের দক্ষ নারী-পুরুষদের নেতৃত্ব দিয়ে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করবেন। তিনি এ দায়িত্ব পাওয়াকে সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে সিনেটের সদস্যদের প্রশ্নের জন্য প্রস্তুতি জানান।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা অপরিহার্য।

ক্রিস্টেনসেনের মনোনয়ন এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে। তার অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের সঙ্গে পূর্ব সম্পর্ক তাকে এই দায়িত্বে সফল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক পদক্ষেপ গুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ