যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অবস্থায় থাকা শিশুদের বৈধভাবে দেশটিতে থাকার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক ও আইনি সিদ্ধান্তের কারণে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি, আশ্রয় এবং নির্বাসন ঠেকানোর প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে অভিবাসন আদালতসংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ ধরনের অভিবাসন ভিসার অপেক্ষায় থাকা শিশুদের […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অবস্থায় থাকা শিশুদের বৈধভাবে দেশটিতে থাকার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক ও আইনি সিদ্ধান্তের কারণে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি, আশ্রয় এবং নির্বাসন ঠেকানোর প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে অভিবাসন আদালতসংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ ধরনের অভিবাসন ভিসার অপেক্ষায় থাকা শিশুদের নির্বাসন মামলা স্থগিত রাখার সুযোগ সীমিত হয়েছে। পাশাপাশি একা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করা শিশুদের আইনি অবস্থান নিয়েও নতুন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।
অভিবাসন আইনজীবীদের অভিযোগ, এসব সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে শিশুদের আইনি অধিকার এবং ন্যায্য শুনানির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিশুদের আইনি সহায়তায় কাজ করা সংগঠনগুলোর কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন পরিবর্তনের কারণে শিশুদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে থাকা কিছু বিশেষ আইনি সুরক্ষা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বিশেষ অভিবাসী কিশোর মর্যাদা (SIJ) পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা শিশুদের ওপর। এই ব্যবস্থা এমন শিশুদের জন্য, যারা বাবা-মায়ের নির্যাতন, পরিত্যাগ বা অবহেলার শিকার হয়েছে এবং কোনো অঙ্গরাজ্যের আদালত তাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।
আগে আইনজীবীরা এসব শিশুর নির্বাসন মামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন করতেন, যাতে তারা SIJ মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু অভিবাসন আপিল বোর্ডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘ ভিসা জটের কারণে শুধু অপেক্ষার ভিত্তিতে মামলা স্থগিত রাখার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠেছে একা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা শিশুদের মর্যাদা নিয়ে। কোনো শিশু পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করলে তাকে ‘অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক’ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, তা নতুন করে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুবিধা হারাতে পারে।
এর প্রভাব পড়তে পারে আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রেও। বর্তমানে একা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা শিশুরা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে আশ্রয়ের আবেদন উপস্থাপনের সুযোগ পায়। নতুন ব্যাখ্যায় সেই সুবিধা পরিবর্তিত হলে বিপুলসংখ্যক শিশুর আবেদনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।
ইতোমধ্যে অভিবাসন আদালতগুলোতে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ভার্জিনিয়ার অ্যানানডেলের একটি আদালতে গত সপ্তাহে প্রায় ৫০টি মামলার শুনানিতে বিচারক সাম্প্রতিক আইনি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে কয়েকটি মামলায় স্থগিতের আবেদন নাকচ করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়ের দাবিও প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
তবে অভিবাসন আদালত পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অপ্রয়োজনীয় বিলম্বের কারণে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই সঙ্গে গ্রহণযোগ্য নয় এমন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিও প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের মামলাজট কমিয়ে আইন অনুযায়ী দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়াই তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিচার বিভাগও জানিয়েছে, অভিবাসন আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমানো বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাদের দাবি, আইন অনুসরণ করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তবে শিশুদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের বৈধ অবস্থান পাওয়ার পথ এমনিতেই কম। নতুন সিদ্ধান্তগুলোর কারণে তাদের আশ্রয় আবেদন, আইনি মর্যাদা এবং নির্বাসন ঠেকানোর সুযোগ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনথিভুক্ত শিশুদের একটি বড় অংশকে এখন নিজেদের আইনি অবস্থান ধরে রাখতে নতুন করে আদালতের লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।