যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিচারকদের গণহারে ছাঁটাই এবং অভিবাসন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আশঙ্কা, এসব পদক্ষেপ অভিবাসীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে শতাধিক ইমিগ্রেশন বিচারককে দায়িত্ব থেকে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিচারকদের গণহারে ছাঁটাই এবং অভিবাসন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আশঙ্কা, এসব পদক্ষেপ অভিবাসীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে শতাধিক ইমিগ্রেশন বিচারককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বহাল থাকা বিচারকদের ওপর দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির চাপও বেড়েছে।
বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক পুনর্গঠন নয়; বরং নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার অধীনে শুনানির সুযোগ পাওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতন বা বৈষম্যের আশঙ্কায় আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ বাধ্যবাধকতা।
শিকাগোর সাবেক ইমিগ্রেশন বিচারক কার্লা এস্পিনোজা জানান, বর্তমানে বিচারকদের ওপর দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীরা তাদের আইনি অধিকার প্রয়োগ বা মুক্তির আবেদন উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে একজন বিচারককে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে, যা ন্যায়সংগত শুনানির সুযোগকে সীমিত করতে পারে। সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী নাগরিক ও অনাগরিক—উভয়েরই আইনি সুরক্ষা (Due Process) পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
এদিকে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।