যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর বয়সী নিজ কন্যাকে হত্যার অভিযোগে প্রায় তিন দশক ধরে পলাতক থাকা এক নারীকে মেক্সিকো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪৮ বছর বয়সী মারিয়া নারেজকে বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ট্যারান্ট কাউন্টিতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বুধবার (১২ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। তবে মেক্সিকোর ঠিক কোন এলাকা থেকে মারিয়াকে গ্রেপ্তার করা […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর বয়সী নিজ কন্যাকে হত্যার অভিযোগে প্রায় তিন দশক ধরে পলাতক থাকা এক নারীকে মেক্সিকো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪৮ বছর বয়সী মারিয়া নারেজকে বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ট্যারান্ট কাউন্টিতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। তবে মেক্সিকোর ঠিক কোন এলাকা থেকে মারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিংবা দীর্ঘ ২৯ বছর তিনি কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
টেক্সাসে ফিরিয়ে নেওয়ার পর মারিয়ার বিরুদ্ধে ‘ক্যাপিটাল মার্ডার’ বা গুরুতর হত্যার অভিযোগে বিচার শুরু হতে পারে।
ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৬ সালের নভেম্বরে। তখন মারিয়ার বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকার একটি মুদি দোকানে কাজ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় নিজ বাড়িতে তিন বছর বয়সী মেয়ে কাসান্দ্রা হোয়াইটকে ঝাঁকিয়ে ও মারধর করেন তিনি। একপর্যায়ে শিশুটিকে দেয়ালের দিকে ছুড়ে মারলে দরজার কিনারায় মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে তার।
পুরোনো সংবাদমাধ্যমের নথি অনুযায়ী, আহত হওয়ার পর কাসান্দ্রা ব্যথার কথা জানিয়েছিল। এরপর সে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মারিয়া মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারিয়া পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ওই সময় তিনি প্রচণ্ড হতাশা ও মানসিক চাপে ছিলেন। এর জেরেই মেজাজ হারিয়ে মেয়ের ওপর হামলা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৯৭ সালে কন্যা হত্যার ঘটনায় মারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গ্র্যান্ড জুরি। বিচার চলাকালে আদালত তার জামিনের অর্থ ২৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
জামিনের শর্ত ভঙ্গের পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত পেরিয়ে মেক্সিকোতে আত্মগোপন করেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
ট্যারান্ট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, কাসান্দ্রার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা কখনো বন্ধ করা হয়নি। দীর্ঘ ২৯ বছর পর তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করায় মেক্সিকো, ইন্টারপোল, ইউএস মার্শালসের মেক্সিকো শাখা, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এখন মেক্সিকো থেকে মারিয়াকে টেক্সাসে ফিরিয়ে এনে প্রায় তিন দশক আগের ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।