সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:৩৬ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২৬

৩৮ বছর পর ফোনে হত্যার দায় স্বীকার, ফ্লোরিডার পুরোনো রহস্যের অবসান

প্রায় চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি হত্যাকাণ্ড নতুন মোড় নিয়েছে। ১৯৮৭ সালে ২০ বছর বয়সী মেলিসা ‘মিসি’ টেলর এলিসন হত্যার ঘটনায় ৩৮ বছর পর পুলিশের কাছে ফোন করে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন ৭০ বছর বয়সী গ্যারি গ্লোওয়াচ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা পুরোনো এই মামলার জট খোলার দাবি করছেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা […]

৩৮ বছর পর ফোনে হত্যার দায় স্বীকার, ফ্লোরিডার পুরোনো রহস্যের অবসান

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

প্রায় চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি হত্যাকাণ্ড নতুন মোড় নিয়েছে। ১৯৮৭ সালে ২০ বছর বয়সী মেলিসা ‘মিসি’ টেলর এলিসন হত্যার ঘটনায় ৩৮ বছর পর পুলিশের কাছে ফোন করে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন ৭০ বছর বয়সী গ্যারি গ্লোওয়াচ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা পুরোনো এই মামলার জট খোলার দাবি করছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে নিজ বাড়ির শোবার ঘর থেকে মেলিসার মরদেহ উদ্ধার করেন তার দুই রুমমেট। একই সময়ে পাশের কক্ষে ছিল মেলিসার মাত্র ১৩ মাস বয়সী মেয়ে ক্যাসি। ময়নাতদন্তে জানা যায়, মাথায় আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছিল।

ঘটনার পর দীর্ঘদিন তদন্ত চালিয়েও পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ফলে মামলাটি শেষ পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘কোল্ড কেসে’ পরিণত হয়।

তবে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই হঠাৎ ক্লে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে ফোন করেন গ্যারি গ্লোওয়াচ। তিনি জানান, বহু বছর আগের একটি অপরাধ সম্পর্কে তিনি পুলিশের কাছে সবকিছু পরিষ্কার করতে চান। পরে জ্যাকসনভিল শেরিফের গোয়েন্দাদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ১৯৮৭ সালের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ঘটনার সময় গ্লোওয়াচের বয়স ছিল ৩২ বছর। তিনি অর্থের সন্ধানে মেলিসার বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানান। তার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ তদন্তকারীরা প্রকাশ করেনি। তবে তিনি ঘটনাস্থলের এমন কিছু নির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন, যা আগে জনসমক্ষে আসেনি। এ কারণে তার স্বীকারোক্তিকে তদন্তকারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।

গ্লোওয়াচের দাবি, ঘটনার বহু বছর পরও তিনি জানতেন না যে মেলিসার মৃত্যু হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে পুরোনো ঘটনাটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পড়ার পর তিনি বিষয়টি নতুন করে উপলব্ধি করেন এবং পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন।

মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে ‘প্রজেক্ট: কোল্ড কেস’ নামের একটি অলাভজনক সংগঠনেরও ভূমিকা ছিল। ২০১৮ সালে সংগঠনটির কাছে মামলাটি হস্তান্তর করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংগঠনটি মেলিসার পরিবারের সঙ্গে মিলে সম্ভাব্য তথ্যের জন্য জনসাধারণের সহায়তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে।

জ্যাকসনভিল শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই সংবাদ সম্মেলনের পর পাওয়া তথ্য এবং পরবর্তী গণমাধ্যমের প্রতিবেদন মামলাটিকে আবারও আলোচনায় নিয়ে আসে। তাদের ধারণা, এসব ঘটনাই শেষ পর্যন্ত গ্লোওয়াচকে পুলিশের কাছে যোগাযোগ করতে প্রভাবিত করেছে।

মেলিসার মেয়ে ক্যাসি এলিসনও দীর্ঘদিন পর মায়ের হত্যার বিষয়ে নতুন অগ্রগতির খবর পেয়েছেন। মায়ের মৃত্যুর সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৩ মাসের শিশু। এরপর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। এই সময়ের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। মেলিসার মা ক্যাথরিন টেলর ২০১৯ সালে মেয়ের হত্যারহস্যের সমাধান না দেখেই মারা যান।

বর্তমানে গ্যারি গ্লোওয়াচকে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা ও সশস্ত্র চুরির অভিযোগে ডুভাল কাউন্টি কারাগারে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় সামনে এলেও মেলিসার পরিবারের কাছে ঘটনাটি এখনো পুরোপুরি স্বস্তির নয়। তবে ৩৮ বছর পর তদন্তে নতুন অগ্রগতি হওয়ায় বহুদিনের অমীমাংসিত এই মামলাটি এখন বিচারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ