যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় অবস্থানরত অভিবাসীদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসনবিষয়ক কর্তৃপক্ষের নতুন নীতিনির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদন বা Adjustment of Status-কে আগের মতো সাধারণ সুবিধা হিসেবে না দেখে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দেওয়া যেতে পারে—এমন একটি কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রত্যেক […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় অবস্থানরত অভিবাসীদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসনবিষয়ক কর্তৃপক্ষের নতুন নীতিনির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদন বা Adjustment of Status-কে আগের মতো সাধারণ সুবিধা হিসেবে না দেখে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দেওয়া যেতে পারে—এমন একটি কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এর অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রত্যেক অস্থায়ী ভিসাধারীকে এখন গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে Consular Processing সম্পন্ন করতে হতে পারে।
গত ২১ মে জারি করা নীতিনির্দেশনায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় থাকা কোনো ব্যক্তি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য হলেও তার আবেদন কীভাবে প্রক্রিয়া হবে, সেটি নির্ধারণে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও কর্মকর্তাদের বিবেচনা।
আগের মতো শুধু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলেই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ কমতে পারে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, আবেদনটির ভিত্তি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ইতিবাচক-নেতিবাচক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
না।
এটি নতুন নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য Adjustment of Status-এর পথ পুরোপুরি বাতিল হয়নি।
অর্থাৎ কেউ যদি আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার জন্য আবেদন করার যোগ্য হন, তাহলে সেই সুযোগ এখনো থাকতে পারে। তবে কোন ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যাবে, সেটি আগের তুলনায় বেশি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হতে পারে।
অন্যদিকে, যাদের ক্ষেত্রে Adjustment of Status প্রযোজ্য হবে না বা অনুমোদিত হবে না, তাদের অভিবাসী ভিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পথ রয়েছে।
Adjustment of Status:
আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করেন। যোগ্যতা পূরণ করলে দেশ ছাড়াই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার সুযোগ থাকতে পারে।
Consular Processing:
আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। পরে সেই ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়া এগোয়।
নতুন নীতির কারণে কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পদ্ধতিটির গুরুত্ব বাড়তে পারে।
নতুন নির্দেশনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য। এর মধ্যে রয়েছেন—
তাদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে শুধু নিজের ভিসার ধরন দেখলেই হবে না; গ্রিন কার্ডের যোগ্যতার ভিত্তি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যদি কোনো আবেদনকারীকে Consular Processing-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেতে হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু ভিসা সাক্ষাৎকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
চাকরি বা পড়াশোনায় সাময়িক বিরতি, পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরে থাকা, ভ্রমণ ব্যয় এবং কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে যেসব পরিবারের একাধিক সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের ক্ষেত্রে একজন আবেদনকারীকে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকতে হলে পারিবারিক ও আর্থিক পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী, কর্মী অথবা অন্যান্য অস্থায়ী ভিসায় দেশটিতে অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে পরিবার, চাকরি বা অন্য কোনো অভিবাসনভিত্তির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
এ কারণে নতুন নীতির ক্ষেত্রে পুরোনো অভিজ্ঞতা বা অন্য কারও আবেদন দেখে নিজের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
কারও ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই Adjustment of Status-এর সুযোগ থাকতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে Consular Processing প্রয়োজন হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত ভিসার ধরন, গ্রিন কার্ডের ভিত্তি এবং বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
ইতোমধ্যে গ্রিন কার্ডধারী বা মার্কিন নাগরিকদের ওপর এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব নেই। মূল বিষয়টি হলো যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী অবস্থান থেকে নতুন করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদন কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং নতুন নীতির ফলে নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে আবেদন করার সুযোগ কতটা থাকবে, তা আরও সতর্কভাবে মূল্যায়নের বিষয় হয়ে উঠেছে।
তাই গ্রিন কার্ডের পরিকল্পনা থাকা অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশ ছাড়ার মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের নির্দিষ্ট অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা উচিত।