যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া থাকা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চান, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগও চালু রেখেছে মার্কিন সরকার। অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি তাদের জন্য নতুন সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরোধকারী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া থাকা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চান, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগও চালু রেখেছে মার্কিন সরকার।
অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি তাদের জন্য নতুন সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরোধকারী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের জন্য বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ খাতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার সময় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা হারানো এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সুযোগ রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন সরকার সিবিপি হোম অ্যাপের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা বাড়িয়ে ২,৬০০ ডলার করার ঘোষণা দেয়।
এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা অ্যাপের মাধ্যমে দেশে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ জানাতে পারেন। নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে যোগ্য হলে তারা নিজ দেশে ফেরার জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণ সুবিধার পাশাপাশি ২,৬০০ ডলার আর্থিক প্রণোদনা পেতে পারেন।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া যোগ্য অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে কিছু অভিবাসন আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষেপের অগ্রাধিকার সাময়িকভাবে কম রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অ্যাপে নিবন্ধন করলেই সব ধরনের আটক বা আইনি পদক্ষেপ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুরক্ষা পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
মার্কিন সরকারের মতে, যারা দেশটিতে থাকার বৈধ অনুমতি হারিয়েছেন এবং নিজের ইচ্ছায় ফিরে যেতে চান, তাদের জন্য এটি একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ বিকল্প। এর মাধ্যমে জোরপূর্বক আটক ও বহিষ্কারের প্রয়োজন কমানো সম্ভব হতে পারে।
অর্থাৎ, একদিকে অভিবাসন আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইন প্রয়োগ কঠোর করা হচ্ছে, অন্যদিকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে ইচ্ছুক যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও ভ্রমণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
তবে ২,৬০০ ডলারের প্রণোদনাটি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই এর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমান অভিবাসন অভিযানের কারণে কর্মসূচিটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।