সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৩:৫৭ পিএম, ১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে আরও কঠোর জবাবের প্রস্তুতি ইরানের, অনিশ্চিত কূটনীতি

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালে এবার আরও ব্যাপক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। তবে চলমান পরোক্ষ আলোচনা থেকে দ্রুত কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্মকর্তারা। তিন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে […]

যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে আরও কঠোর জবাবের প্রস্তুতি ইরানের, অনিশ্চিত কূটনীতি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালে এবার আরও ব্যাপক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। তবে চলমান পরোক্ষ আলোচনা থেকে দ্রুত কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্মকর্তারা।

তিন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে জবাবের পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা। এর আওতায় মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পর ইরানের সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা তেহরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকেও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইরান বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, ইরান এবার কোনো প্রতীকী হামলার জবাবে প্রতীকী পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইবে না। বরং পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আরও বড় মাত্রার জবাব দেওয়ার পথ বেছে নিতে পারে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমাতে ইরান সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের একটি জবাব তেহরানে পৌঁছেছে।

তবে পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান এখনো শর্তসাপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের দাবিগুলো পূরণ না হলে এ বিষয়ে সমঝোতায় যাওয়া কঠিন। ফলে পরোক্ষ আলোচনা চললেও দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই অনিশ্চিত।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান প্রোগ্রামের পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকার মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘদিন ধরে বহন করা ইরানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। এতে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আশঙ্কাও বাড়ছে।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব ইরানের অর্থনীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, যুদ্ধের মধ্যে ইরানে দমন-পীড়ন আরও বেড়েছে। মে মাসের পর থেকে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দেশটিতে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ