যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির ভোটারদের উদ্দেশে খোলাচিঠি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ২৫ পাতার ওই চিঠিতে মার্কিন ভোটারদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমান নেতাদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত চিঠিটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির ভোটারদের উদ্দেশে খোলাচিঠি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ২৫ পাতার ওই চিঠিতে মার্কিন ভোটারদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমান নেতাদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত চিঠিটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত সপ্তম মাস পেরিয়ে আরও দীর্ঘ হচ্ছে। একই সময়ে ইরাক থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে ওয়াশিংটন। তেহরান এই প্রত্যাহারকে নিজেদের জন্য একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছে।
চিঠিতে আইআরজিসি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে মার্কিন জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তবে এগুলো আইআরজিসির নিজস্ব দাবি; যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।
চিঠিতে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী রাজনীতিকদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে ভোটের ক্ষমতা ব্যবহার করুন। আইআরজিসি একই সঙ্গে ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা বন্ধ, বিদেশে যুদ্ধ ও সামরিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং বিদেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, এই চিঠির মাধ্যমে তারা মার্কিন প্রশাসনের আচরণ বদলে যাবে—এমনটা আশা করছেন না। তবে মার্কিন ভোটাররা যদি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বিষয়ে আরও তথ্য জানতে পারেন, তাহলে তারা নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চিঠিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে সহায়তা, বিদেশে যুদ্ধ এবং সামরিক হস্তক্ষেপের নীতি পরিবর্তন করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সহাবস্থান সম্ভব।
এদিকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির চিঠির মাধ্যমে এসব ইস্যুতে মার্কিন ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে চিঠিটি কতটা মার্কিন জনমতে প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চিঠিটি এমন সময় প্রকাশ করা হলো, যখন ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার কিছু বিষয়ে অগ্রগতি থাকলেও কোন পদক্ষেপ আগে নেওয়া হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।