কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কারও কণ্ঠ নকল করলেও তা আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়তে পারে বলে গুরুত্বপূর্ণ এক রায় দিয়েছেন জাপানের টোকিও জেলা আদালত। আদালত জানিয়েছে, ব্যক্তির কণ্ঠও তার পরিচয়ের অংশ হিসেবে ‘পাবলিসিটি রাইটস’-এর সুরক্ষা পেতে পারে। জাপানে এআই দিয়ে কণ্ঠ নকলের ঘটনায় এটিই প্রথম এমন আদালতের সিদ্ধান্ত বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) […]
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কারও কণ্ঠ নকল করলেও তা আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়তে পারে বলে গুরুত্বপূর্ণ এক রায় দিয়েছেন জাপানের টোকিও জেলা আদালত। আদালত জানিয়েছে, ব্যক্তির কণ্ঠও তার পরিচয়ের অংশ হিসেবে ‘পাবলিসিটি রাইটস’-এর সুরক্ষা পেতে পারে। জাপানে এআই দিয়ে কণ্ঠ নকলের ঘটনায় এটিই প্রথম এমন আদালতের সিদ্ধান্ত বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রিয় জাপানি কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা কেনজিরো সুদার করা মামলায় এ রায় দেন আদালত। ‘জুজুতসু কাইসেন’ অ্যানিমের জনপ্রিয় চরিত্র কেন্তো নানামির কণ্ঠ দেওয়ার জন্য পরিচিত সুদা অভিযোগ করেন, তার কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করে এআই-নির্মিত কণ্ঠ ব্যবহার করে টিকটকে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটি অজ্ঞাত অ্যাকাউন্ট থেকে সুদার কণ্ঠের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ কণ্ঠ ব্যবহার করে ১৮৮টি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওগুলোতে নগরকথা, অলৌকিক ঘটনা ও বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক বিষয় নিয়ে বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি ভিডিওগুলোর মাধ্যমে মাসে প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ ইয়েন পর্যন্ত আয় করত।
সুদার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এআই-নির্মিত কণ্ঠের সঙ্গে তার নিজের কণ্ঠের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফলে দর্শকদের মধ্যে ওই কণ্ঠটি তারই—এমন বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। অন্যদিকে টিকটকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভিডিওতে ব্যবহৃত কণ্ঠটি সাধারণ একজন পুরুষের কণ্ঠ এবং সেটিকে সুদার কণ্ঠ বলে চিহ্নিত করার মতো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই। ভিডিও প্রকাশকারী ব্যক্তিও দাবি করেন, এআইটি তার এক বন্ধুর কণ্ঠ ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত করা হয়েছিল।
আদালত অবশ্য সুদার ভিডিওগুলো সরিয়ে দেওয়ার আবেদন খারিজ করেছে। কারণ মামলার শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি ইতোমধ্যে মুছে ফেলা হয়েছিল। ফলে ভিডিও অপসারণের জন্য টিকটককে নতুন করে কোনো নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে আদালত মনে করেছে।
তবে ভিডিও সরানোর আবেদন খারিজ করলেও আদালত কণ্ঠের আইনি সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। আদালতের মতে, মানুষের কণ্ঠ তার ব্যক্তিসত্তার একটি প্রতীক এবং কোনো পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠের বাণিজ্যিক আকর্ষণকে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা পাবলিসিটি রাইটস লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
জাপানের আইনে এতদিন কণ্ঠের অধিকার নিয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। এ রায়ের ফলে এআই দিয়ে অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী বা অন্য পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠ নকল করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আইনি বিরোধের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের মধ্যে অভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পীদের অনুমতি ছাড়া তাদের কণ্ঠ নকলের বিষয়টি বিশ্বজুড়েই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। জাপানের এই রায় সেই বিতর্কে ব্যক্তির কণ্ঠের আইনি পরিচয় ও বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করল।