ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আলজাজিরা। বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ২০২৫-২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোর জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বর্তমানে ইরানি জাতির সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ২০২৫-২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোর জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বর্তমানে ইরানি জাতির সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও বিচারিক দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধী, বৈশ্বিক শক্তি এবং আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশেষ মনোযোগ দাবি করে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় দেশটির জনগণ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, মিনাব ও লামের্দ অঞ্চলে শিশু হত্যার ঘটনা, যুদ্ধাপরাধ এবং চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে হামলার মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল।
মোজতবা খামেনি দাবি করেন, এসব ঘটনার কারণে ইরানি জনগণ শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত ও নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
বিবৃতিতে তিনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও উল্লেখ করেন এবং এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি মামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, এ ধরনের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘এই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
মোজতবা খামেনি আরও দাবি করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্য এবং প্রকাশ্য অবস্থান এসব ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করে। তার মতে, এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি জানান, যুদ্ধকালীন এসব ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে এবং যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।