দেশের বাজারে আগেভাগেই আসতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার আম। মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় খুশি স্থানীয় চাষিরা। সাতক্ষীরার কলারোয়ার আমচাষি খান নাজমুস সাদাত জানান, এবার ঝড় তুলনামূলক কম হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই গোবিন্দভোগ আম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। জ্যৈষ্ঠ মাস শুরুর আগেই দেশের বাজারে সাতক্ষীরার আম […]
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে আগেভাগেই আসতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার আম। মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় খুশি স্থানীয় চাষিরা। সাতক্ষীরার কলারোয়ার আমচাষি খান নাজমুস সাদাত জানান, এবার ঝড় তুলনামূলক কম হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই গোবিন্দভোগ আম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
জ্যৈষ্ঠ মাস শুরুর আগেই দেশের বাজারে সাতক্ষীরার আম পৌঁছে যাওয়ায় এখন এটি দেশের আম অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করেছে। আগে যেখানে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বেশি পরিচিত ছিল, এখন সেখানে সাতক্ষীরাও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর সাতক্ষীরায় প্রায় ৭০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশে ১০০ টন আম রপ্তানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
কেন সাতক্ষীরার আম আগে আসে?
কৃষি গবেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়া। সাতক্ষীরা উপকূলীয় জেলা হওয়ায় এখানে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে আম দ্রুত পরিপক্ব হয়।
আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, অক্ষাংশের পার্থক্যের কারণে সাতক্ষীরায় আম সংগ্রহ রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের তুলনায় অন্তত এক সপ্তাহ আগে শুরু হয়।
এছাড়া মাটির লবণাক্ততাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষিবিদদের মতে, লবণাক্ত মাটিতে ফসলের জীবনচক্র কিছুটা কমে যায়, ফলে আম দ্রুত পাকে।
স্বাদে কি পার্থক্য আছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাতক্ষীরা ও উত্তরাঞ্চলের একই জাতের আমের স্বাদে বড় পার্থক্য নেই। তবে সাতক্ষীরার মাটিতে লবণাক্ততার কারণে অনেক সময় আমের মিষ্টতা কিছুটা বেশি অনুভূত হয়।
সাতক্ষীরার হিমসাগর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরসাপাত মূলত একই জাতের আম। কিন্তু আবহাওয়া ও মাটির ভিন্নতার কারণে স্বাদে সামান্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
বিদেশেও বাড়ছে চাহিদা
সাতক্ষীরার আম এখন শুধু দেশের বাজারেই নয়, বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ও বিষমুক্ত চাষাবাদের কারণে এখানকার আম ইউরোপের বাজারেও জায়গা করে নিয়েছে।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ১২ হাজারের বেশি চাষি আম চাষ করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, লবণাক্ততার কারণে অন্য কৃষিতে ঝুঁকি থাকায় এখন অনেক কৃষক আমচাষে ঝুঁকছেন। ফলে সাতক্ষীরায় প্রতি বছর আম উৎপাদন ও ব্যবসার পরিধি বাড়ছে।