প্রায় দেড় দশক আগে সংঘটিত জাপানের ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। গবেষকদের দাবি, ২০১১ সালের শক্তিশালী তোহোকু ভূমিকম্পের কিছু সময় পর পুরো জাপান দ্বীপপুঞ্জ সামান্য হলেও পূর্ব দিকে সরে গিয়েছিল। এই পরিবর্তন এতটাই সূক্ষ্ম ছিল যে দীর্ঘদিন তা বিজ্ঞানীদের নজর এড়িয়ে যায়। তবে আধুনিক স্যাটেলাইট তথ্য ও জিপিএস বিশ্লেষণের […]
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় দেড় দশক আগে সংঘটিত জাপানের ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। গবেষকদের দাবি, ২০১১ সালের শক্তিশালী তোহোকু ভূমিকম্পের কিছু সময় পর পুরো জাপান দ্বীপপুঞ্জ সামান্য হলেও পূর্ব দিকে সরে গিয়েছিল। এই পরিবর্তন এতটাই সূক্ষ্ম ছিল যে দীর্ঘদিন তা বিজ্ঞানীদের নজর এড়িয়ে যায়। তবে আধুনিক স্যাটেলাইট তথ্য ও জিপিএস বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি এখন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন Sunyoung Park এবং তার সহকর্মীরা। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানে আঘাত হানা ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ১৫ মিনিট পর একটি অস্বাভাবিক ভূ-কম্পনীয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, যার ফলে দেশটির প্রায় পুরো ভূখণ্ড একযোগে ৫ থেকে ৬ মিলিমিটার পর্যন্ত পূর্ব দিকে সরে যায়।
২০১১ সালের ওই ভূমিকম্পটি ছিল জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। এর ফলে ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় Fukushima Daiichi Nuclear Power Plant, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল ভূমিকম্পের উৎপন্ন শক্তিশালী ভূকম্পন তরঙ্গ পৃথিবীর গভীরে নেমে যায় এবং পরে পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছাকাছি অংশে প্রতিফলিত হয়ে আবার ভূপৃষ্ঠের দিকে ফিরে আসে। এই তরঙ্গ প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে জাপানের নিচে অবস্থিত টেকটোনিক প্লেটগুলোর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করে। ফলাফল হিসেবে ঘটে দেশব্যাপী এই অস্বাভাবিক স্থানচ্যুতি।
প্রথমদিকে বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে যন্ত্রগত ত্রুটি বা তথ্য সংগ্রহের ভুল বলে মনে করেছিলেন। কারণ এত বিশাল এলাকায় একই সময়ে প্রায় একই ধরনের নড়াচড়া এর আগে কখনও দেখা যায়নি। পরে দীর্ঘ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হন যে এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বাস্তব ভূতাত্ত্বিক ঘটনা।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই স্থানচ্যুতি কোনো বড় আফটারশক বা পরবর্তী ভূমিকম্পের কারণে হয়নি। বরং এটি ঘটেছিল প্রধান কম্পনের উৎপন্ন তরঙ্গ পৃথিবীর গভীর স্তর থেকে ফিরে আসার ফলে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ভূমিকম্পবিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন ধরনের একটি ভূ-কম্পনীয় প্রতিক্রিয়ার প্রমাণ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ঘটনার মাধ্যমে পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরীণ গঠন এবং ভূকম্পন তরঙ্গের আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের পরবর্তী ঝুঁকি মূল্যায়ন ও পূর্বাভাস তৈরিতেও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভূকম্পন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের উন্নত স্যাটেলাইট ও জিপিএস পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের কারণেই এত সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তবে পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর অভাবে সেগুলো হয়তো ধরা পড়ে না।
গবেষকরা মনে করছেন, পৃথিবীর গভীর স্তরের গতিশীলতা এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের ভূবিজ্ঞান গবেষণায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।