পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের বাজারে বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে—খেজুর, ফল, কাঁচামরিচ, শসা, লেবু ও কলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে স্পষ্ট ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মনে করছে, সরকারি মনিটরিং দুর্বল থাকায় এবং পরিবহন সংকটের […]
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের বাজারে বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে—খেজুর, ফল, কাঁচামরিচ, শসা, লেবু ও কলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে স্পষ্ট ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মনে করছে, সরকারি মনিটরিং দুর্বল থাকায় এবং পরিবহন সংকটের কারণে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দাম বেড়েছে।
ক্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে সরকারি নজরদারি দুর্বল থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও রমজান এলেই সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দাম বাড়ছে।
খেজুর ও সবজির দামে বড় উল্লম্ফন
রাজধানীর নয়াবাজার, হাতিরপুল, কারওয়ানবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে—সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খেজুরের দাম। গত বছর জাহিদি খেজুর কেজিপ্রতি ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২৮০ টাকায় উঠেছে। এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল প্রায় ২৫০ টাকা।
এছাড়া কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলার দাম প্রায় তিনগুণ হয়ে হালি ৫০–৬০ টাকা। শসা ৭০–১০০ টাকা কেজি এবং লেবুর হালি মানভেদে ৫০–১৫০ টাকা।
ফলের বাজারেও চড়া দাম
আমদানি করা ফলের দামও বেড়েছে। আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৬০–৩৫০ টাকা, ফুজি আপেল ৩০০–৩৫০ টাকা, সবুজ আপেল ৪০০–৪৫০ টাকা কেজি। কমলা ৩০০–৩৮০, মাল্টা ২৫০–৩০০, নাশপাতি ৩০০–৩৫০, সাদা আঙুর ৫২০–৫৫০, কালো আঙুর ৫৫০–৬০০ এবং আনার ৪৫০–৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশি ফলের দামও বাড়তি। ড্রাগন ফল ২০০–২৫০ এবং সফেদা ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি: আন্তর্জাতিক বাজার ও বন্দরের অস্থিরতা
বাদামতলীর আড়তদার আলমাছ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের অস্থিরতায় আমদানি ব্যাহত হওয়ায় খেজুরের দাম বেড়েছে।
তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দাবি করছে, ছোলা, চিনি ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম রয়েছে।
আমদানি বাড়লেও দাম কমেনি
চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে খেজুর আমদানি হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৯৩১ টন, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৬ হাজার টন বেশি। তবুও বাজারে দামে তার প্রভাব পড়েনি।
এফবিসিসিআইয়ের আশ্বাস
রমজান সামনে রেখে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক আব্দুর রহিম খান বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম বাড়ার সুযোগ নেই।
তিনি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজারে চাপ সৃষ্টি না করার অনুরোধ করেন।