সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
১১:৩১ এএম, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

রাঙামাটিতে ভূমি কমিশনের বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা: সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ ও অবরোধের ডাক

রাঙামাটিতে আগামী ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) এবং সচেতন ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে এই বৈঠক প্রতিহত করতে রাঙামাটি শহরে দিনব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ, অবরোধ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে তাদের […]

রাঙামাটিতে ভূমি কমিশনের বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা: সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ ও অবরোধের ডাক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

রাঙামাটিতে আগামী ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) এবং সচেতন ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে এই বৈঠক প্রতিহত করতে রাঙামাটি শহরে দিনব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ, অবরোধ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে তাদের আট দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে, যা না হলে কঠোর প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচির পেছনের কারণ ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ দীর্ঘদিনের একটি গুরুতর সমস্যা। বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ভূমি মালিকানা ও অধিকার নিয়ে বিরোধ, বৈষম্য ও অবিচারের অভিযোগ প্রায়শই শোনা যায়। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ২০০১ সালে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠিত হলেও, স্থানীয় জনগণের মধ্যে এখনও এই কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি মো: তাজুল ইসলাম তাজ বৃহস্পতিবার রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমাদের আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না করে কমিশনের বৈঠক করানো হলে আমরা তা প্রতিহত করব। এই বৈঠক পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপ্রিয় জনগণের স্বার্থবিরোধী এবং এটি আমাদের অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা।”

পিসিসিপি তাদের আট দফা দাবিতে মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরেছে:

১. পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতি ও গোষ্ঠীর জনগণের জনসংখ্যা অনুযায়ী ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে সমান সদস্য নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

২. ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির আগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার জন্য ভূমির জরিপ এবং বর্তমান অবস্থা নির্ধারণ জরুরি।

৩. ২০১৬ সালের ভূমি কমিশন সংশোধনী আইনের ধারা বাতিল করে জাতীয় সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

৪. পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা দেশের প্রচলিত ভূমি আইন অনুসারে পরিচালনা এবং জেলা প্রশাসককে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা দেওয়া।

৫. ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।

৬. কমিশনের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ২০০১ সালের ভূমি কমিশন আইনের আওতায় আনয়ন।

৭. রীতি, প্রথা ও পদ্ধতির পরিবর্তে দেশের বিদ্যমান ভূমি আইন অনুসারে কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনা।

৮. জেলা প্রশাসক কর্তৃক বন্দোবস্তীকৃত মালিকানা থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না।

পিসিসিপি ও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা সবাই দল-মত নির্বিশেষে সকলকে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ১৯ অক্টোবর রাঙামাটি শহরের প্রতিটি মোড়ে ছাত্র-জনতা অবস্থান নেবে এবং বৈঠক স্থান ঘেরাও ও পৌর এলাকায় অবরোধের মাধ্যমে তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য চাপ সৃষ্টি করবে।

পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীর হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের সভাপতি মো: নূর হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। তারা জানান, এই আন্দোলন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জমি-স্বত্ব ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ: বৃহত্তর প্রভাব ও গুরুত্ব

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ কেবলমাত্র স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি দেশের সামগ্রিক সামাজিক শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যা তাদের জীবনযাত্রা ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই আন্দোলন সফল হলে, তা পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ সুগম করবে।

এছাড়া, সরকারের ভূমি নীতিমালা ও কমিশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে, আইন প্রয়োগে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে। তাই এই আন্দোলনের গুরুত্ব শুধুমাত্র ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সীমাবদ্ধ না থেকে, এটি দেশের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে।

রাঙামাটিতে ভূমি কমিশনের বৈঠক ঘিরে সৃষ্টি হওয়া এই উত্তেজনা ও বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অধিকার ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার দাবি। পিসিসিপি ও অন্যান্য ছাত্র-জনতা সংগঠন তাদের আট দফা দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান। এই পরিস্থিতি রাঙামাটি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, যার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সংবেদনশীল মনোযোগ জরুরি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ