রাজবাড়ীর পাংশা সরকারি কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ব্যাপক প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। এলাহী হোসেন জোয়ার্দ্দারের বিরুদ্ধে অশ্লীল আচরণ, শারীরিক হেনস্থা ও ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল আয়োজন ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে, যেখানে প্রায় […]
রাজবাড়ীর পাংশা সরকারি কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ব্যাপক প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। এলাহী হোসেন জোয়ার্দ্দারের বিরুদ্ধে অশ্লীল আচরণ, শারীরিক হেনস্থা ও ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল আয়োজন ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে, যেখানে প্রায় ৩০০ জনের বেশি অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে পাংশা সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনোয়ারুল ইসলাম এবং হামলার শিকার শিক্ষক মো. হাফিজুল ইসলাম বক্তব্য দেন। একেএম মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সহকর্মী মো. হাফিজুল ইসলামকে গত মঙ্গলবার এলাহী জোয়ার্দ্দার শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন। একজন শিক্ষককে এভাবে আক্রমণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। প্রশাসনের উচিত এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, “আমি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণ করেছি, এরপর থেকেই এলাহী হোসেন জোয়ার্দ্দার আমাকে ও আমার সহকর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। তিনি এলাকায় সন্ত্রাসী পরিচিত। কিছুদিন আগে তার হামলার কারণে তাকে আদালতে মামলা করা হয় এবং তিনি ছয় মাসের সাজা পেয়েছিলেন। বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও বেপরোয়া আচরণ চালাচ্ছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”
শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা শিক্ষকদের অসম্মান এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অশ্লীল আচরণের যে কোনো রূপ মেনে নেবো না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ন্যায্য বিচার না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।”
এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান, যেন তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের সহিংসতা শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় সংকেত হিসেবে বিবেচিত। এটি শুধু কলেজের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে না, বরং শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষকরা যখন নিরাপদ বোধ করেন না, তখন তারা শিক্ষাদানের প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন না। তাই প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।
এছাড়া, এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে। এটি প্রমাণ করে যে যুবসমাজ নিরাপত্তা ও সম্মান পেতে সচেতন এবং তারা অবিলম্বে ন্যায্য বিচার দাবি করে। প্রশাসন ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে শিক্ষাক্ষেত্রে সন্ত্রাস ও হয়রানির স্থান না থাকে।