ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি ‘অপমানিত’ এবং ‘বিতাড়িত’ বোধ করছেন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বঙ্গভবন থেকে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি বেরিয়ে যেতে […]
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি ‘অপমানিত’ এবং ‘বিতাড়িত’ বোধ করছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বঙ্গভবন থেকে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি বেরিয়ে যেতে চাই। তবে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিকভাবে আমার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের প্রথম মিডিয়া সাক্ষাৎকার।
রাষ্ট্রপতির অভিযোগ
সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় সাত মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা করেননি। শুধু তাই নয়, তার প্রেস বিভাগ বাতিল করা হয়েছে, আর সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, “সব দূতাবাস ও হাইকমিশনে প্রেসিডেন্টের ছবি ছিল। এক রাতে সেগুলো সরানো হয়। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যায় যে হয়তো আমাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি খুব অপমানিত হয়েছি।”
তিনি আরও জানান, প্রতিকৃতি অপসারণ বিষয়টি লিখিতভাবে ড. ইউনূসকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার বক্তব্য, “আমার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।”
রয়টার্স জানায়, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আরও জানান, তিনি নিয়মিত সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
সর্বশেষ এই সাক্ষাৎকার দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।