সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিনোদন
২:০৬ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

রেকর্ড ২১৭ মিলিয়ন ডলার আয়, বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক

সমালোচকদের নেতিবাচক মন্তব্য এবং জটিল নির্মাণ প্রক্রিয়া পেরিয়ে মাইকেল জ্যাকসনের জীবন অবলম্বনে তৈরি বড় বাজেটের চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে চমকপ্রদ শুরু করেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই উত্তর আমেরিকায় ছবিটির আয় হয়েছে ৯৭ মিলিয়ন ডলার, এবং সারা বিশ্বে মোট আয় ছুঁয়েছে ২১৭ মিলিয়ন ডলার — যা ইতিহাসে কোনো বায়োপিকের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড।জ্যাকসনের ভাগ্নে জাফার জ্যাকসন অভিনীত […]

রেকর্ড ২১৭ মিলিয়ন ডলার আয়, বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

সমালোচকদের নেতিবাচক মন্তব্য এবং জটিল নির্মাণ প্রক্রিয়া পেরিয়ে মাইকেল জ্যাকসনের জীবন অবলম্বনে তৈরি বড় বাজেটের চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে চমকপ্রদ শুরু করেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই উত্তর আমেরিকায় ছবিটির আয় হয়েছে ৯৭ মিলিয়ন ডলার, এবং সারা বিশ্বে মোট আয় ছুঁয়েছে ২১৭ মিলিয়ন ডলার — যা ইতিহাসে কোনো বায়োপিকের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড।
জ্যাকসনের ভাগ্নে জাফার জ্যাকসন অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে একাই আয় করেছে ১২০.৪ মিলিয়ন ডলার। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের ওপেনহেইমার (১৮০.৪ মিলিয়ন ডলার) এবং ২০১৮ সালের বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি (১২৪ মিলিয়ন ডলার)-এর উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড ভেঙে পড়েছে।
উত্তর আমেরিকার বাজারেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ছবিটি। এক্ষেত্রে ওপেনহেইমার (৮২ মিলিয়ন), স্ট্রেট আউটা কম্পটন (৬০.২ মিলিয়ন) এবং বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি (৫১ মিলিয়ন)-এর সংখ্যাগুলো পেছনে ফেলে দিয়েছে ‘মাইকেল’।
তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, ছবিটিতে জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। রোটেন টমেটোসে সমালোচক স্কোর মাত্র ৩৮% হলেও দর্শক রেটিং রয়েছে ৯৭%, যা সাধারণ দর্শকদের মধ্যে ছবিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।
লায়ন্সগেটের ব্যানারে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এই ছবি নির্মাণ ছিল নিঃসন্দেহে একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। ২০০৯ সালে ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণকারী মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বহুবার উঠেছিল। জ্যাকসন এবং তার এস্টেট সবসময়ই নির্দোষিতার দাবি করে এসেছে, যদিও অন্যের সন্তানদের সাথে একই কক্ষে রাত কাটানোর বিষয়টি তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন। ২০০৫ সালে একমাত্র ফৌজদারি মামলায় তিনি বেকসুর খালাস পান।
পরিবারের মধ্যেও ছবিটি নিয়ে মতভেদ ছিল। জ্যাকসনের বোন জ্যানেট জ্যাকসন এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হননি এবং মুক্তির অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত ছিলেন। এদিকে জ্যাকসনের মেয়ে প্যারিস ছবিটিকে “কল্পনার জগৎ” বলে মন্তব্য করেছেন।
নির্মাণ প্রক্রিয়াও ছিল বেশ ঝামেলাপূর্ণ। শুটিং শেষ হওয়ার পর জানা যায়, ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে জর্ডান চ্যান্ডলার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়বস্তু রয়েছে, যা আইনি জটিলতার কারণে রাখা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৪ সালে জ্যাকসন তৎকালীন ১৩ বছর বয়সী চ্যান্ডলারকে ২৩ মিলিয়ন ডলার দিয়ে মামলা মীমাংসা করেছিলেন, এবং সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জ্যাকসন এস্টেট কোনো চলচ্চিত্রে চ্যান্ডলারের নাম ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে পুনরায় শুটিং করতে হয় এবং গল্পের পরিসর ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে তৈরি এই ছবির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার স্বত্ব ইউনিভার্সালের কাছে বিক্রি হয়েছে। ব্যাপক সাফল্যের পর এরইমধ্যে সিক্যুয়েল এবং তৃতীয় কিস্তি নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রযোজকরা।
উল্লেখ্য, মাইকেল জ্যাকসনের বিপুল ভক্তগোষ্ঠীর দেশ জাপানে এখনো ছবিটি মুক্তি পায়নি। আগামী জুন মাসে সেখানে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, বিতর্ক ও প্রতিকূলতা ছাপিয়ে ‘মাইকেল’ এখন বিশ্ব বক্স অফিসে এক উজ্জ্বল সাফল্যের প্রতীক।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ