দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, জেলা পর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যালট পাঠানোর কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই ব্যালট মুদ্রণ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি আসনের ব্যালট […]
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, জেলা পর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যালট পাঠানোর কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই ব্যালট মুদ্রণ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি আসনের ব্যালট ছাপা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত প্রায় সব আসনের ব্যালট পৌঁছে গেছে। একটি আসনের ব্যালট রোববার সকালে পাঠানো হলে জেলা পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হবে।
ইসির ব্যালট বিতরণ শাখার উপ-সচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, জেলা পর্যায়ে ব্যালট পৌঁছানোর পর রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের অধীনস্থ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (এআরও) কাছে এসব ব্যালট হস্তান্তর করবেন। কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে চিঠির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “রোববার থেকেই আসনভিত্তিক ব্যালট বিতরণ শুরু করা যাবে।”
ইসি সূত্র আরও জানায়, এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা, কারাবন্দি, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন প্রায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিন লাখের বেশি ভোটার তাদের ব্যালট দেশে পাঠিয়েছেন, যা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন।
এর বাইরে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৬২ লাখ ভোটার সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও জেলা পর্যায়ে সরবরাহের কাজ শেষ হয়েছে। রোববার থেকে এসব ব্যালট এআরওদের কাছে বিতরণ শুরু হবে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ব্যালট ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী সংগ্রহ করে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, তার জেলার সব আসনের ব্যালট ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “রোববার থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ব্যালট বিতরণ শুরু করা হবে।”
উল্লেখ্য, যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন, তাদের নাম সম্পূরক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর যারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন, কেবল তাদের সংখ্যার ভিত্তিতেই ব্যালট মুদ্রণ করা হয়েছে।