লেবাননে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের মধ্যে অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, […]
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের মধ্যে অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েল, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সমঝোতা চূড়ান্ত করা হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিকও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবানন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন এবং হাজারো বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য হওয়া যুদ্ধাবসান চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি লেবাননসহ সব ফ্রন্টে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায়ও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, সীমিত নিরাপত্তা হুমকির জবাবে বৈরুতের আবাসিক ভবন ধ্বংস করার মতো পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল না। তিনি আরও সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসরায়েলের কিছু কট্টরপন্থী নেতার সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান বাস্তবতা মেনে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং সেই সম্পর্ককে দুর্বল করা কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা ‘হতাশা থেকে’ করা হয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, আলোচনার প্রয়োজন ইরানেরই বেশি ছিল এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাস্তবায়ন যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি কতদিন টিকে থাকে এবং মাঠপর্যায়ে উভয় পক্ষ কতটা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তার ওপরই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই যুদ্ধবিরতি অন্তত সাময়িকভাবে অঞ্চলটিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।