সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা সরকারের ঘোষিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ দ্রুত চূড়ান্ত করে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ ও উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থানের পেছনের কারণ সরকার ২৬ মার্চ ২০২৫ […]
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা সরকারের ঘোষিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ দ্রুত চূড়ান্ত করে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ ও উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থানের পেছনের কারণ
সরকার ২৬ মার্চ ২০২৫ সালে সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নির্ধারণ করা হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। এতে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই ঘোষণা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন তথা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই আইনের দ্রুত বাস্তবায়নের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা সময়সূচি না পাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এ কারণেই তারা অংশগ্রহণকারীদের মতামত অনুযায়ী দ্রুত আইনটি হালনাগাদ করে অধ্যাদেশ জারি করার দাবি জানাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং পরিস্থিতি
সকাল ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে আসেন। এরপর ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
এই অবস্থানের কারণে শিক্ষা ভবন থেকে সচিবালয় অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া রোধ করতে ব্যারিকেড বসায়। অবস্থান কর্মসূচিতে নারী শিক্ষার্থীরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি ও সরকারের করণীয়
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তারা কোনো অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চান না। বরং সরকারের কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি বা রোডম্যাপ না পাওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ দ্রুত চূড়ান্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আইনটি দ্রুত কার্যকর হলে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হতে পারবে, যা তাদের একাডেমিক ও পেশাগত উন্নয়নে বড় ধরনের অবদান রাখবে।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সাত কলেজ দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এই কলেজগুলোকে একটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে এবং গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
একই সঙ্গে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও সুযোগ পাবেন, যা তাদের কর্মজীবনে সাফল্যের পথ সুগম করবে। তবে এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা থাকলে শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হতে পারে, যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই ঘটনা শুধু সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, দেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ ও শিক্ষানীতির জন্যও গুরুত্ব বহন করে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সরকার যদি সময়োপযোগীভাবে পূরণ করতে পারে, তাহলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। অন্যথায়, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়ে আন্দোলনের মাত্রা বাড়তে পারে, যা শিক্ষাব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।