Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিশ্ব
১:৪৭ পিএম, ১১ জুন ২০২৬

শুরু হয়ে গেছে ‘সুপার এল নিনো’, ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে বিশ্ব

বিশ্বজুড়ে আবারও অস্থির হয়ে উঠছে জলবায়ু পরিস্থিতি। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শক্তিশালী এল নিনো বা ‘সুপার এল নিনো’র দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন […]

শুরু হয়ে গেছে ‘সুপার এল নিনো’, ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে বিশ্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বিশ্বজুড়ে আবারও অস্থির হয়ে উঠছে জলবায়ু পরিস্থিতি। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শক্তিশালী এল নিনো বা ‘সুপার এল নিনো’র দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)-এর সর্বশেষ জলবায়ু প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান এল নিনো পরিস্থিতি ‘সুপার এল নিনো’ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬৩ শতাংশ।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সংঘটিত একটি স্বাভাবিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বিজ্ঞানীদের মতে, সুপার এল নিনো দেখা দিলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এনওএএ-এর জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের দিকে অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ পানির প্রবাহ দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাবে বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক ধারা ইতোমধ্যেই পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উষ্ণ পানি সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৬০০ থেকে ১ হাজার ফুট নিচ দিয়ে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলবর্তী অঞ্চলে পৌঁছেছে এবং এখন ধীরে ধীরে সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে আসছে। অতীতের বড় এল নিনো ঘটনাগুলোর সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০১৫-১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব আবারও সুপার এল নিনোর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে পারে। এর আগে ১৯৯৭-৯৮ এবং ১৯৮২-৮৩ সালের শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো সমুদ্রের অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে দেয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করে। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০২৭ সাল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। বর্তমানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে ২০২৪ সালের দখলে।

এল নিনোর প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। কোথাও দেখা দেয় তীব্র খরা ও গরম, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষকদের মতে, এবারের এল নিনোর সময় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে হারিকেনের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং হাওয়াই অঞ্চলে ঘন ঘন হারিকেন আঘাত হানার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় শীত মৌসুম তুলনামূলক উষ্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র খরা এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষাকালে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এশিয়ার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলেও শীতকালে তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে ব্রাজিলের অনেক অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অব্যাহত ব্যবহারের কারণে এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর প্রভাব আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ফলে সম্ভাব্য সুপার এল নিনো বিশ্বজুড়ে মানবজীবন, কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে গবেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এল নিনো কখনোই একেবারে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে না। প্রতিবারই এটি নতুন কোনো বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দেয়। এবার সুপার এল নিনো বিশ্বের জন্য কী ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ ও দুর্যোগ নিয়ে আসবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

সূত্র: সিএনএন

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ