কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বসুন্ধরার পুত্র সোবহান দেশে ঢোকার সাহস পায়নি, আনভীর দেশে ঢুকতে পারেনি। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পর আমরা দেখছি সোবহানের পুত্র সদর্পে দেশে ঢুকেছে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে […]
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বসুন্ধরার পুত্র সোবহান দেশে ঢোকার সাহস পায়নি, আনভীর দেশে ঢুকতে পারেনি। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পর আমরা দেখছি সোবহানের পুত্র সদর্পে দেশে ঢুকেছে।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদক বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমরা সেই মামলার অগ্রগতি জানতে চাই। আমরা জানতে চাই, আন্ডার টেবিল কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধা কোথায়, সেটি দেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং তাদের মিডিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও হত্যার বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তাদের খুঁটির জোর কোথায়, সেটিও জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, যারা গুম-খুনের বিরুদ্ধে বৈধতা অর্জন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান দেখতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশোধপরায়ণ হননি, আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই। তবে প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া আর সুবিচার নিশ্চিত না করা এক বিষয় নয়।
তিনি আরও বলেন, যেসব গণমাধ্যম ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান তৈরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা প্রতিহিংসার কথা বলছি না, আমরা ন্যায়বিচারের কথা বলছি।
গত ১৭ বছরে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সেই অর্থ কীভাবে উদ্ধার করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। ঋণখেলাপিদের সঙ্গে একই সংসদে বসতে হয়, এটি আমাদের জন্য লজ্জার।
তিনি বলেন, আমরা শুনতে পাই এবং দেখতে পাই, সরকারি দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, তারা জেল খেটেছেন, কষ্ট করেছেন, সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেননি। কিন্তু একই সঙ্গে সরকারি দলের কিছু মানুষ বসুন্ধরার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন, তাদের মিডিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যে মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও ক্ষমতাসীন দলের অনেক সদস্য কাজ করছেন। এটি শুধু আমাদের জন্য নয়, তাদের নিজেদের সহকর্মীদের মধ্যেও রক্তক্ষরণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, এই দ্বৈত অবস্থানের অবসান হওয়া প্রয়োজন এবং জনগণ এ বিষয়ে স্পষ্ট জবাব প্রত্যাশা করে।