রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সংলাপে নারী নেত্রীদের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা উঠে এসেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চার নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। নারী নেত্রীরা সংসদের আসন সংখ্যা ৩০০ থেকে বৃদ্ধি করে ৬০০ করার পাশাপাশি ৩০০ আসনে […]
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সংলাপে নারী নেত্রীদের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা উঠে এসেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চার নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। নারী নেত্রীরা সংসদের আসন সংখ্যা ৩০০ থেকে বৃদ্ধি করে ৬০০ করার পাশাপাশি ৩০০ আসনে সরাসরি নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার দাবি করেন।
নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই প্রস্তাবনার মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাদের ক্ষমতায়ন করা। ‘নিজেরা করি’ সমন্বয়কারী খুশি কবির বলেন, নির্বাচনে নারীদের জন্য উৎসাহ বৃদ্ধি ও সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তিনি আরো বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য যাতে নারীরা ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র নির্বাচন ফ্রেন্ডলি ঘোষণা করলেই হবে না; নির্বাচন প্রক্রিয়ার জড়িত সব পক্ষের মানসিকতাকেও নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল করতে হবে। তিনি বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নারী বিদ্বেষী, সাম্প্রদায়িকতা প্রচারকারী এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়লেও সংসদে আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকায় নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত। তাই তিনি বলেন, ৩০০ আসনের পরিবর্তে ৬০০ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, যেখানে একটিতে শুধুমাত্র নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং অন্যটিতে যেকেউ অংশ নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হুমকির ঘটনা প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নারী প্রার্থীরা সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার শিকার হতে পারেন।
প্রতিবন্ধী ভোটারদের নিরাপত্তার কথাও সংলাপে গুরুত্ব পায়। উইমেন উইথ ডিজএ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি বলেন, এই অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন, যদি ২০৩০ সালের পরও রাজনৈতিক দলগুলো ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে তাদের পুনঃনিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হবে না। তিনি প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন।
গুজব ও মিথ্যা তথ্য মোকাবিলায় কমিশন সতর্ক থাকলেও, তথ্য প্রবাহে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর জোর দেয়া হবে।
সংলাপের সমাপনীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ভোটকেন্দ্র গ্রাউন্ড ফ্লোরে রাখা এবং তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তিনি সবাইকে নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো দেশের গণতন্ত্রের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন এবং সরাসরি ভোটের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি ভোটার এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ গঠনে সহায়ক হবে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করা দেশের বহির্বিশ্বে বসবাসরত নাগরিকদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।