সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৮:৩৪ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

সিলেটে আটকা পড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য ঢাকাগামী ট্রেন পরিষেবার বিশেষ ব্যবস্থা

ঢাকার কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবে সিলেটে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এই পরিস্থিতিতে সিলেটে আটকা পড়া যাত্রীদের দ্রুত ঢাকায় পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নেয়। শনিবার রাতে সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে অতিরিক্ত একটি বিশেষ বগি সংযুক্ত করে যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. […]

সিলেটে আটকা পড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য ঢাকাগামী ট্রেন পরিষেবার বিশেষ ব্যবস্থা
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ঢাকার কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবে সিলেটে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এই পরিস্থিতিতে সিলেটে আটকা পড়া যাত্রীদের দ্রুত ঢাকায় পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নেয়। শনিবার রাতে সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে অতিরিক্ত একটি বিশেষ বগি সংযুক্ত করে যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঢাকা বিমানবন্দর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সিলেটে জরুরি অবতরণ করা ফ্লাইটের যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানোর জন্য তারা রেলওয়ের সহযোগিতায় বিশেষ বগি সংযুক্ত করেছে। যাত্রীরা সরাসরি রেলস্টেশনে এসে টিকিট সংগ্রহ করে ট্রেনে উঠতে পারবেন। এই উদ্যোগে যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার বিকাল ৩টা ৩১ মিনিটে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৪০ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে, যেটিতে মোট ৩৯৬ জন যাত্রী ছিলেন। এর পর সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে ১৫৩ জন যাত্রী নিয়ে এবং ৬টা ১৫ মিনিটে মালয়েশিয়া থেকে ৭৫ যাত্রী নিয়ে ইউএস-বাংলার দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও সিলেটে অবতরণ করে।

ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই জরুরি পরিস্থিতির মোকাবেলায় যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছে। যাত্রীদের আরামদায়ক অবস্থানের জন্য লাউঞ্জে ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের সহায়তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে যাত্রীদের নিরাপদ ও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ সুগম হয়েছে।

এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকর সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দর ও রেল বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার দক্ষতা প্রমাণ করে। এই ধরনের দ্রুত ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যাত্রী সুবিধায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন, “রাতেই আমার ঢাকা থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণে শাহজালাল বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা আমার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।” এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা যেমন ট্রেনের বিশেষ বগি সংযুক্তি, তা যাত্রীদের জন্য এক বড় সান্ত্বনা হিসেবে কাজ করছে।

এই উদ্যোগ দেশের যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় সংকট মোকাবেলায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ