সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১:২০ পিএম, ২৭ জুন ২০২৬

সূর্যের তাপে রান্না থেকে এসিহীন জীবন, ইউরোপের রেকর্ড তাপপ্রবাহে ভাইরাল বাস্তবতা

ইউরোপজুড়ে এখন চলছে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ। তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মহাদেশটির কোটি কোটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল। বিশেষ করে ফ্রান্সে তাপমাত্রা অতীতের বহু রেকর্ড ভেঙে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চলতি সপ্তাহেই একাধিকবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস […]

সূর্যের তাপে রান্না থেকে এসিহীন জীবন, ইউরোপের রেকর্ড তাপপ্রবাহে ভাইরাল বাস্তবতা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইউরোপজুড়ে এখন চলছে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ। তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মহাদেশটির কোটি কোটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল। বিশেষ করে ফ্রান্সে তাপমাত্রা অতীতের বহু রেকর্ড ভেঙে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চলতি সপ্তাহেই একাধিকবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৮৭২ সাল থেকে সংরক্ষিত আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে প্যারিসে এতবার ৪০ ডিগ্রি ছাড়ানো তাপমাত্রা এর আগে কখনো রেকর্ড হয়নি।

এই তীব্র গরমের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় খুঁজছে, কোথাও আবার গরম থেকে বাঁচতে নতুন নতুন উপায় অবলম্বন করছে।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্যারিসের এক বাসিন্দা বহু কষ্টে একটি নতুন এয়ার কন্ডিশনার কিনে সেটি নিজের বাসায় তুলছেন। লিফট না থাকায় তাকে পাঁচ তলা পর্যন্ত ভারী যন্ত্রটি সিঁড়ি বেয়ে টেনে নিয়ে যেতে হয়। প্রচণ্ড গরমে তার শরীর থেকে ঝরে পড়া ঘামে সিঁড়ির কার্পেট ভিজে যায়।

চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তীব্র গরমে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ব্যস্ত বাজার এলাকায় পানি ছিটিয়ে দিচ্ছেন। পানি স্প্রে করার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত মানুষ হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং অনেকেই পানির ফোয়ারার নিচে দাঁড়িয়ে সাময়িক স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ একটি কুকুর বারবার রাস্তার পাশের ফোয়ারার পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। মালিক তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রাণীটি আবারও পানির দিকে ফিরে যাচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চরম তাপপ্রবাহের কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনাও ঘটছে। ফ্রান্সে একটি গণপরিবহন বাসের চালক অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাসটিতে কোনো কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ফরাসি নাগরিক কেবলমাত্র সূর্যের তাপ ব্যবহার করে খোলা জায়গায় ডিম ও বেকন ভাজার চেষ্টা করছেন। চুলা বা আগুন ছাড়াই গরম ধাতব পাতের ওপর খাবার রান্না হওয়ার দৃশ্য অনেকের কাছেই বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপজুড়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন শহরে ইলেকট্রনিক্স দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও কুলার কিনতে ভিড় করছেন। অনেক জায়গায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষকরা বলছেন, এটি কোনো স্বাভাবিক বা সাময়িক আবহাওয়াগত ঘটনা নয়। তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব এখন ইউরোপের আবহাওয়ার ওপর স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলমান এই তাপপ্রবাহ মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এতটা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। গবেষকদের মতে, বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি তৃতীয় বড় তাপপ্রবাহ। এর আগে ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও ইউরোপ একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে এক লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতিও নতুন করে একই ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন চরম আবহাওয়া আরও বেশি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ